আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
وَ قَالُوۡا لَنۡ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعۡدُوۡدَۃً
“তারা বলে, আমাদেরকে আগুন স্পর্শ করবে না, কেবল কয়েকটি গণনা করা দিনের জন্য।”
ইহুদিরা গোনাহ করলেও মনে করত তারা শুধু অল্প ক’দিন জাহান্নামে থাকবে, তারপর বাঁচিয়ে নেওয়া হবে। তারা গুনাহকে হালকাভাবে নিত।
قُلۡ اَتَّخَذۡتُمۡ عِنۡدَ اللّٰهِ عَهۡدًا
“বলুন: তোমরা কি আল্লাহর নিকট থেকে কোনো অঙ্গীকার পেয়েছো?”
তাদের মিথ্যা ধারণা যাচাই করা হচ্ছে—আল্লাহ কি সত্যিই এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
فَلَنۡ یُّخۡلِفَ اللّٰهُ عَهۡدَهٗۤ
“তাহলে আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না।”
যদি সত্যিই তারা এমন কোনো অঙ্গীকার পেয়ে থাকে, তবে নিশ্চয়ই তা পূর্ণ হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি পায়নি।
اَمۡ تَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
“নাকি তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছো, যা তোমরা জানো না?”
তাদেরকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে—তারা কি নিজের মনগড়া কথা আল্লাহর নামে চালিয়ে দিচ্ছে?
এই আয়াতে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি ভুল আকীদা এবং অহংকারজনিত দাবিকে নাকচ করা হয়েছে। তারা মনে করত তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ায় জাহান্নামে গেলেও সেখানে অল্প সময়ই থাকবে। কিন্তু আল্লাহ প্রশ্ন করছেন, এমন অঙ্গীকার কি সত্যিই তারা আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছে? যদি না পেয়ে থাকে, তাহলে এটি মিথ্যাচার এবং ভয়ানক দাবি। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্য-মিথ্যার ভিত্তি হওয়া উচিত প্রমাণ ও জ্ঞান, কল্পনা বা অহংকার নয়।
আল্লাহর ব্যাপারে মনগড়া কথা বলা মারাত্মক গুনাহ।
কেউ যদি আল্লাহর কোনো প্রতিশ্রুতির দাবি করে, তার প্রমাণ থাকা উচিত।
জাহান্নামের শাস্তিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
গুনাহ করলে তার ফল ভোগ করতে হবে; জাতি বা বংশের ভিত্তিতে ছাড় পাওয়া যাবে না।
এই আয়াত ইহুদি সম্প্রদায়ের সেই দাবির বিরুদ্ধে নাযিল হয়, যেখানে তারা বলত, “আমরা আল্লাহর নির্বাচিত জাতি, তাই জাহান্নামে গেলে খুব অল্প সময়ের জন্য যাবো।” তাদের এই অহংকার, বিভ্রান্তিকর মনোভাব এবং মিথ্যা বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করে এই আয়াত নাযিল হয়।