আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
• ثُمَّ قَسَتۡ قُلُوۡبُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ فَهِیَ کَالۡحِجَارَۃِ اَوۡ اَشَدُّ قَسۡوَۃً,
“অতঃপর তোমাদের হৃদয় কঠোর হয়ে গেছে তার পরে, তা যেন পাথরের মতো বা তার থেকেও কঠোর”—এই আয়াতটি মানুষের মন ও হৃদয়ের কঠোরতার বিষয় তুলে ধরে। কিছু মানুষ আল্লাহর নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের হৃদয় পাথরের মতো কঠিন হয়ে যায়।,
• وَ اِنَّ مِنَ الۡحِجَارَۃِ لَمَا یَتَفَجَّرُ مِنۡهُ الۡاَنۡهٰرُ,
“নিঃসন্দেহ পাথরের মধ্য থেকে কিছু নদী ফোটে”—এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কিছু পাথরের মধ্যেও জীবন ও জল প্রবাহিত হয়, যা হৃদয়ের নমনীয়তার প্রতীক।,
• وَ اِنَّ مِنۡهَا لَمَا یَشَّقَّقُ فَیَخۡرُجُ مِنۡهُ الۡمَآءُ,
“কিছু পাথর ফেটে তাতে পানি বের হয়”—এটি হৃদয়ের নমনীয়তা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতীক।,
• وَ اِنَّ مِنۡهَا لَمَا یَهۡبِطُ مِنۡ خَشۡیَۃِ اللّٰهِ,
“এবং কিছু পাথর ভয়ভীতি থেকে নিচে পড়ে”—এই অংশটি মানুষের ভয়-ভীতি বা আল্লাহর ভয়ের প্রভাবকে বোঝায় যা হৃদয়কে নম্র ও ত্রুটিমুক্ত করে।,
• وَ مَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ,
“আর আল্লাহ তোমাদের কাজ থেকে অবগত, তিনি অজ্ঞাত নন”—আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং মানুষের অন্তরের অবস্থা ও কাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টি সজাগ।,
এই আয়াত মানুষের হৃদয়ের অবস্থা ও তার পরিবর্তনের তুলনা পাথরের সঙ্গে করেছে। কেউ হৃদয় কঠোর ও পাথরের মতো, আবার কেউ নমনীয় ও জীবনদায়ী হতে পারে। আল্লাহর ভয় ও ঈমান হৃদয়কে নম্র করে এবং জীবন্ত করে তোলে। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তাই মানুষের অন্তরের অবস্থা লুকানো নেই।,
হৃদয়ের কঠোরতা আল্লাহর ভয় না থাকার ফল। নমনীয় হৃদয় মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য প্রয়োজন। আল্লাহর প্রতি ভয়ের মাধ্যমে হৃদয় জীবিত ও পরিবর্তনশীল হয়। আমাদের হৃদয়কে নম্র ও খোলা রাখতে হবে।,
এই আয়াতটি সেই সময় নাযিল হয় যখন বনী ইসরাইল আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও হৃদয়ের কঠোরতার পরিচয় দিচ্ছিল। তাদের বিশ্বাসহীনতা ও অমান্যতা নিয়ে আল্লাহ এই ব্যাখ্যা দেন।,