আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
• اَفَتَطۡمَعُوْنَ اَن یُّؤْمِنُوْا لَکُمْ,
“অতএব, তুমি আশা করো যে তারা তোমাদের প্রতি ঈমান আনবে”—আয়াতে ইঙ্গিত যে, যারা পূর্বে আল্লাহর কথা শুনেও বিকৃত করত তাদের থেকে ঈমান আশা করা অযৌক্তিক।,
• وَقَدْ کَانَ فَرِیْقٌ مِّنْہُمْ یَسْمَعُونَ کَلَامَ اللّٰهِ,
“অথচ তাদের মধ্যে একটি দল ছিল যারা আল্লাহর কথা শোনত”—অর্থাৎ, তারা আল্লাহর নির্দেশনা ও বাণী শুনত, তবে শ্রবণ করেই সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত না।,
• ثُمَّ یُحَرِّفُونَهٗ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوْهُ وَ ہُمْ یَعْلَمُونَ,
“তারপর তারা বুঝে শুনে তা বিকৃত করত, অথচ তারা জানত”—তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বাণী বিকৃত করত, জানত যে তারা বিকৃত করছে, তবে সত্ত্বেও করত।,
এই আয়াত বর্ণনা করে, কিছু মানুষ যাদের মধ্যে আল্লাহর বাণী শোনা সত্ত্বেও তারা তা বিকৃত করে এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হয়। এদের প্রতি ঈমানের আশা করা অযৌক্তিক, কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে বিকৃত করে এবং জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তা করে। এটি মানুষের ইহকামী স্বার্থপরতা ও ধোঁকাবাজির একটি উদাহরণ।,
আমাদের উচিত সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর বাণী বিকৃত না করা। জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ সত্যকে বিকৃত করে, তার প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত নয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।,
এই আয়াতটি মক্কায় নাজিল হয় তখন যখন কিছু মানুষের মধ্যে আল্লাহর বাণী শোনা সত্ত্বেও তারা তা বিকৃত করত এবং মুমিনদের প্রতি প্রতারণা করত। এই আয়াত তাদের সেই অবস্থার প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে নাযিল হয়।