সূরা: ২. আল-বাকারা (اَلْبَقَرَةِ)
৬৬ নং আয়াতের তাফসীর

٦٦ - فَجَعَلۡنٰهَا نَکَالًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡهَا وَ مَا خَلۡفَهَا وَ مَوۡعِظَۃً لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
উচ্চারণ: ফাজা‘ আলনাহা নাকালাল্লিমা বাইনা ইয়াদাইহা ওয়া মা খালফাহা ওয়া মাওইযাতাল্লিল মুত্তাক্বীন।
অনুবাদ: আর আমি একে বানিয়েছি দৃষ্টান্ত, সে সময়ের এবং তৎপরবর্তী জনপদসমূহের জন্য এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।

তাফসীর

আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর

فَجَعَلْنَاهَا

অতঃপর আমি একে করে দিলাম—এখানে “আমি” বলতে আল্লাহ তাআলা নিজেকে বোঝাচ্ছেন, এবং “একে” বলতে পূর্ববর্তী আয়াতে বানর রূপে রূপান্তরিত করে দেওয়া শাস্তিকে বোঝানো হয়েছে। এই শাস্তি ছিল ইহুদি জাতির একটি গোষ্ঠীর জন্য, যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল।

نَكَـٰلًۭا

দৃষ্টান্তস্বরূপ শাস্তি—“নাকাল” শব্দের অর্থ এমন শাস্তি যা দেখে অন্যরা ভয় পায় এবং শিক্ষা নেয়। এটি এমন এক ধরনের শাস্তি, যা শুধু শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য নয় বরং চারপাশের মানুষদের জন্যও সতর্কবার্তা।

لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا

এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লোকদের জন্য—এতে বোঝানো হয়েছে: এই শাস্তি শুধু ওই সময়ের মানুষদের জন্য নয়, বরং পূর্ববর্তী জাতি যারা অতীতে ছিল এবং ভবিষ্যতের মানুষরাও এর থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা শাস্তিকে যুগপোযোগী করে তুলেছেন।

وَمَوْعِظَةًۭ لِّلْمُتَّقِينَ

এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ—এখানে “মাওইযাহ” মানে উপদেশ, যা হৃদয়কে নরম করে এবং চিন্তা ও আমলের মধ্যে পরিবর্তন আনে। মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তিরাই আসলেই এসব থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। শাস্তির ঘটনা শুধু ভয় নয়, বরং আমল ও সতর্কতার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।


আয়াতের ব্যাখ্যা

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বোঝাচ্ছেন, যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে চাতুর্য ও ছলনার আশ্রয় নেয়, তাদেরকে তিনি কিভাবে শাস্তি দিয়েছিলেন। সেই শাস্তি শুধু ঐ গোষ্ঠীর জন্য ছিল না; এটি অতীত ও ভবিষ্যতের সকল জাতির জন্যও একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। এই ঘটনা আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ ও চিন্তার খোরাক। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর বিধান মান্য করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং সতর্ক থাকে যেন এমন অপরাধে না জড়ায়।


আয়াতের শিক্ষা

  • আল্লাহর দেওয়া শাস্তি দৃষ্টান্তস্বরূপ হতে পারে, যা অন্যদের জন্য শিক্ষা ও সতর্কতার উপকরণ।

  • যারা সত্যিকার মুত্তাকী, তারা পূর্ববর্তী জাতির শাস্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

  • আল্লাহর বিধান অমান্য করলে তা শুধু দুনিয়ার শাস্তি নয়, ইতিহাসেও চিহ্নিত হয়ে থাকে।

  • আল্লাহর দেয়া উপদেশ ও সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ এগুলো আত্মা পরিশুদ্ধ করে।


নাযিলের প্রেক্ষাপট (সাবাবুন নুজুল)

এই আয়াতটি পূর্বের আয়াতের ধারাবাহিকতায় নাযিল হয়েছে, যেখানে “সবত দিবস”-এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী এক গোষ্ঠীর শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়। তাদের বানর রূপে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, যা ছিল এক অলৌকিক শাস্তি। এই শাস্তি শুধু তাদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানবজাতির জন্য একটি শিক্ষনীয় ঘটনা। মুত্তাকীরা এ থেকে শিক্ষা নিয়ে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।


তাফসীরে:

পূর্বের আয়াত পরবর্তী আয়াত