আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
• وَ لَقَدۡ عَلِمۡتُمُ
আর তোমরা তো জানো—এখানে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলকে তাদের পূর্বপুরুষদের কৃতকর্মের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যেন তারা শিক্ষা নেয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ অমান্যকারী একটি গোষ্ঠীর দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে।
• الَّذِیۡنَ اعۡتَدَوۡا مِنۡکُمۡ فِی السَّبۡتِ
যারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করেছিল—শব্দটি ইঙ্গিত করে এক গোষ্ঠীর প্রতি, যারা "সবত দিবস" পালনের নামে প্রতারণা করে মাছ ধরত, যা তাদের জন্য হারাম ছিল। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৃষ্টিকর্তার আদেশের প্রতি বিদ্রূপ করে।
• فَقُلۡنَا لَهُمۡ کُوۡنُوۡا قِرَدَۃً خٰسِئِیۡنَ
অতঃপর আমি তাদেরকে বলেছিলাম, “তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও”—এটি শাস্তিস্বরূপ এক অলৌকিক রূপান্তর, যা আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়াতে দৃষ্টান্তস্বরূপ দিয়েছিলেন। “খাসিইন” শব্দটি বোঝায় অপমানিত, তিরস্কৃত, ও সমাজচ্যুত।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলের এক গুরুতর অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ‘সবত’ দিবসে কাজ করা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু তারা কৌশলে তা লঙ্ঘন করত। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়াতেই কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন—তাদের আকৃতি বানরের রূপে রূপান্তরিত করে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষা নিতে পারে।
আল্লাহর আদেশ অমান্য করলে দুনিয়াতেও কঠোর শাস্তি আসতে পারে।
চতুরতা ও ছলনার মাধ্যমে শরীয়তের নিয়ম লঙ্ঘন করা আল্লাহর দৃষ্টিতে গোনাহ।
পূর্ব জাতির শাস্তির ঘটনা আমাদের জন্য একটি ভয়ংকর সতর্কবার্তা।
অন্যের কৃতকর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়া বুদ্ধিমানের পরিচয়।
এই আয়াতটি বনী ইসরাইলদের একটি গোষ্ঠীর ব্যাপারে, যারা “সবত” অর্থাৎ শনিবারে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছলনা করে মাছ ধরত। তারা শুক্রবারই জাল পেতে রাখত এবং রবিবার তা উঠিয়ে নিত। বাহ্যিকভাবে তারা শনিবারে কিছু করত না, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আদেশ অমান্য করত। আল্লাহ তাদেরকে এই প্রতারণার কারণে বানর রূপে রূপান্তর করেন।