আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
অতঃপর যালেমরা পরিবর্তন করে দিলো
এই অংশে আল্লাহ বলছেন, যালেমরা—অর্থাৎ যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল এবং অন্যায়ের পথে চলে গিয়েছিল—তারা আল্লাহর নির্দিষ্ট আদেশকে অবজ্ঞা করে নিজ ইচ্ছেমতো কথা ও কাজ করেছে। তাদের এই অবাধ্যতাকে “যুলম” (অন্যায়) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাদের বলা হয়েছিল যে কথাটি, তা পরিবর্তন করে তারা অন্য কথা বললো
আল্লাহ তাআলা তাদের বলেছিলেন ‘হিত্তাহ’ (ক্ষমা চেয়ে বলা), কিন্তু তারা এই সম্মানজনক শব্দের পরিবর্তে বিদ্রুপ করে শব্দ বিকৃতি ঘটিয়ে ‘হিনতাহ’ (গম) বা অন্য হাস্যকর শব্দ ব্যবহার করে। এটাই তাদের অবাধ্যতার বহিঃপ্রকাশ।
অতঃপর আমরা যালেমদের ওপর অবতীর্ণ করলাম
এটি একটি শাস্তির ঘোষণা। তারা যেহেতু অন্যায়ের পথে ছিল এবং আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করেছিল, তাই শাস্তি ছিল অনিবার্য। এখানে বোঝানো হয়েছে, এই শাস্তি দুনিয়াতেই নাযিল হয়েছে।
আকাশ থেকে শাস্তি
রিজ্য বা শাস্তি বলতে কোন ধরনের দুর্যোগ বোঝানো হয়েছে। অনেক তাফসীরকারগণ বলেন, এটি ছিল প্লেগ বা মহামারী যা তাদের ওপর আকাশ থেকে নাযিল হয়। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি গজব।
তাদের অমান্যতার কারণে
‘ইয়াফসুকূন’ শব্দটি ‘ফিসক’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো সীমা লঙ্ঘন করা, অবাধ্য হওয়া। এখানে বলা হয়েছে, তারা একের পর এক অবাধ্যতা করে যাচ্ছিল, যার কারণে এই শাস্তি নাযিল করা হয়।
এই আয়াতটি বনী ইসরাঈলের ইতিহাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে একটি শহরে প্রবেশ করে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেন এবং একটি নির্দিষ্ট বাক্য (হিত্তাহ) উচ্চারণ করতে বলেন, যার মাধ্যমে তাদের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হতো। কিন্তু তারা ঐ বাক্য বিকৃত করে অন্যকিছু বলেছিল এবং আদেশের অবমাননা করেছিল। এর পরিণতিতে তারা আকাশ থেকে আসা ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হয়। এটি আল্লাহর নীতির প্রতিফলন—যে তিনি অবাধ্য ও বিদ্রুপকারী জাতির ওপর গজব বর্ষণ করেন।
আল্লাহর আদেশ পরিবর্তন করলে শাস্তি অনিবার্য: আল্লাহ তাআলার নির্দিষ্ট নির্দেশ পালনে অবহেলা করলে শাস্তি আসবেই।
বাক্য ও আচরণে শ্রদ্ধাবোধ জরুরি: আল্লাহর নির্ধারিত কথার বিকৃতি করা মারাত্মক অপরাধ।
যুলুম ও ফিসক শাস্তির কারণ: অবিচার ও সীমা লঙ্ঘন মানুষকে আল্লাহর গজবে পতিত করে।
আল্লাহ সরাসরি শাস্তি দিতে সক্ষম: প্রয়োজন হলে আকাশ থেকেও শাস্তি নাযিল করতে পারেন।
এই আয়াতটি বনী ইসরাঈলের অতীত ইতিহাসের ঘটনা বর্ণনা করছে, যেটা হযরত মূসা (আঃ)-এর সময়ের। আল্লাহ তাআলা তাদের একটি নির্দিষ্ট শহরে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন এবং প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট বাক্য “হিত্তাহ” বলার আদেশ দেন। এই বাক্যের মাধ্যমে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত। কিন্তু তারা আদেশ পালন না করে হাস্যকরভাবে শব্দ বিকৃতি ঘটিয়ে বলে “হিনতাহ” বা অন্য কিছু, এবং দরজায় সিজদা করার পরিবর্তে পিছনের দিক দিয়ে প্রবেশ করে। এই অপরাধের কারণে আল্লাহ তাদের ওপর মহামারী বা আকাশ থেকে গজব নাযিল করেন।