আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
● وَ ظَلَّلۡنَا عَلَیۡکُمُ الۡغَمَامَ
“আমি তোমাদের উপর ছায়া দিয়েছিলাম মেঘমালা দ্বারা” — যখন বনী ইসরাইল মরুভূমিতে ছিল এবং সূর্যের প্রচণ্ড তাপে কষ্ট পাচ্ছিল, তখন আল্লাহ্ আকাশে মেঘ পাঠিয়ে তাদেরকে ছায়া দিয়েছিলেন। এটি ছিল এক বিশেষ আল্লাহর নিয়ামত।
● وَ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمُ الۡمَنَّ وَ السَّلۡوٰی
“আর আমি তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছিলাম” — মান্না ছিল এক প্রকার মিষ্টি খাদ্য, যা প্রাকৃতিকভাবে বৃক্ষ থেকে ঝরত। সালওয়া ছিল একধরনের পাখি, যা সহজে ধরা যেত এবং খাওয়া যেত। মরুভূমিতে খাদ্য সংকটের মধ্যে এগুলো ছিল মহান নিয়ামত।
● کُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ
“তোমরা উত্তম রিযিক ভক্ষণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি” — আল্লাহ্ নির্দেশ দিলেন, তোমরা আল্লাহর দেওয়া পবিত্র ও হালাল খাবার গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ হও।
“তারা আমাদের প্রতি জুলুম করেনি” — তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, কারণ আল্লাহ্ কারো দ্বারা প্রভাবিত নন।
“বরং তারা নিজেদের উপরই জুলুম করছিল” — তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে নিজেদের ক্ষতিই করেছিল, কারণ অবাধ্যতার শাস্তি তাদের ওপরই প্রত্যাবর্তন করে।
এই আয়াতে বনী ইসরাইলকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরুভূমির কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহ্ তাদের জন্য ছায়া, খাদ্য ও শান্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা এসব নিয়ামতের কদর করেনি বরং অবাধ্যতা করেছে। এ কারণে আল্লাহ বলেন, তারা আসলে আল্লাহর প্রতি নয়, নিজেদের প্রতিই জুলুম করেছে।
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক।
আল্লাহ মানুষের জন্য দয়াপূর্ণ ব্যবস্থা করেন, এমনকি কঠিন অবস্থাতেও।
কেউ যদি আল্লাহর অবাধ্য হয়, তাহলে সে নিজের ক্ষতিই করে।
শোকরগুজার বান্দা হওয়া উচিত; না হলে নিয়ামতের অপচয় হয়।
এই আয়াত নাযিল হয় বনী ইসরাইলের ইতিহাস তুলে ধরতে, যারা মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে মিসর থেকে মুক্তি পেয়ে মরুভূমিতে অবস্থান করছিল। সেসময় আল্লাহ্ তাদের খাদ্য, পানীয় ও ছায়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তারপরও তারা অকৃতজ্ঞতা ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছিল। এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে — যেন তারা এসব জাতির মতো অকৃতজ্ঞ না হয়।