সূরা: ২. আল-বাকারা (اَلْبَقَرَةِ)
৫৩ নং আয়াতের তাফসীর

٥٣ - وَ اِذۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَ الۡفُرۡقَانَ لَعَلَّکُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ
উচ্চারণ: ওইজ আতাইনা মূসাল-কিতাবা ও আল-ফুরকানা লাআল্লাকুম তাহতাদুন।
অনুবাদ: আর যখন আমি মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব ও ফুরকান* যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।

তাফসীর

আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর

وَ اِذۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ
“আর যখন আমরা মূসাকে কিতাব প্রদান করেছিলাম” — আল্লাহ তওরা (আল-কিতাব) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেন, যা শাস্ত্র ও বিধানাবলী ধারণ করে।

وَالۡفُرۡقَانَ
“এবং ফুরকান” — আল্লাহর কিতাব যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে, মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক।

لَعَلَّکُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ
“যাতে তোমরা পথ অনুসরণ কর” — আল্লাহ এই কিতাব এবং ফুরকানের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় পথ প্রদর্শনের উদ্দেশ্য রেখেছেন।


আয়াতের ব্যাখ্যা

এই আয়াতটি ইঙ্গিত করে যে আল্লাহ মূসাকে দু’টি মহান নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন — কিতাব এবং ফুরকান। কিতাব হলো আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ও শাস্ত্র, আর ফুরকান হলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করার ক্ষমতা। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষ যাতে সঠিক পথ চিনে নেয় এবং ঈমান ও আমল সঠিকভাবে পরিচালনা করে।


আয়াতের শিক্ষা

  • আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য পবিত্র কিতাব ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

  • সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।

  • আল্লাহর দেওয়া পথপ্রদর্শন অনুসরণ করাই মানুষের উত্তম জীবনযাপনের গ্যারান্টি।

  • কিতাব ও ফুরকান মানুষের আত্মাকে আলোকিত করে।


নাযিলের প্রেক্ষাপট (সাবাবুন নুজুল)

এই আয়াত নাযিল হয়েছিল যখন আল্লাহ মূসা (আ) কে তওরাহ এবং ফুরকান প্রদান করছিলেন, যা বনী ইসরাইলের জন্য ঈমান ও আইন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি ছিল।


তাফসীরে:

পূর্বের আয়াত পরবর্তী আয়াত