আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
● وَ اِذۡ وٰعَدۡنَا مُوۡسٰۤی اَرۡبَعِیۡنَ لَیۡلَۃً
“আর স্মরণ করো, যখন আমরা মূসাকে চল্লিশ রাতের জন্য সমায় দিয়েছিলাম” — আল্লাহ মূসাকে বিশেষ সময় দিয়েছিলেন যেটা চল্লিশ রাত ছিল, এই সময়ের মধ্যে তিনি পরামর্শ, নির্দেশনা ও ওয়াহি গ্রহণ করতেন।
● ثُمَّ اتَّخَذۡتُمُ الۡعِجۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِهٖ
“তখন তোমরা তার পরে বাছুরকে গ্রহণ করলে” — মূসা (আঃ) যখন স্হানে নেই তখন বনী ইসরাইল ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিল এবং তাদের জন্য স্বর্ণের একটি বাছুর (গলফরা) তৈরি করে সেটিকে পূজা করতে শুরু করে।
● وَ اَنۡتُمۡ ظٰلِمُوۡنَ
“এবং নিশ্চয়ই তোমরা অত্যাচারী ছিলে” — তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে, কারণ তারা আল্লাহর সঠিক পথে অবিচল থেকে সরে গিয়ে অবৈধ উপাসনা গ্রহণ করেছিল।
এই আয়াতটি বনী ইসরাইলের এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস স্মরণ করাচ্ছে। মূসা (আঃ) যখন আল্লাহর সঙ্গে চল্লিশ রাতের জন্য সমঝোতায় ছিলেন, তখন বনী ইসরাইল তার অনুপস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে তাদের জন্য স্বর্ণের বাছুর তৈরি করে সেটিকে পূজা করেছিল। এটি ছিল এক বিরাট দোষ এবং আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতার নিদর্শন। এই কাজের জন্য তারা নিজেই নিন্দিত ও দোষী।
আল্লাহর ওয়াহি গ্রহণের সময় ধৈর্য ও বিশ্বস্ততা অত্যন্ত জরুরি।
আল্লাহর পথে অনুগত না থেকে ভ্রান্ত পথে চলে গেলে তা বড় ভুল ও অবিচার।
অবিচারের ফলে নিজেকে কষ্ট ও শাস্তির মুখোমুখি করা হয়।
ধৈর্যের অভাব মানুষকে পথভ্রষ্ট করে।
প্রত্যেককে আল্লাহর আদেশ মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে কঠিন সময়েও।
এই আয়াত নাযিল হয়েছিল মুসা (আঃ) যখন আল্লাহর সঙ্গে তওরা গ্রহণ করার জন্য চল্লিশ রাত পর্বে গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে বনী ইসরাইল নিজেরাই ধৈর্য হারিয়ে গিয়ে একটি স্বর্ণের বাছুর বানিয়ে সেটিকে পূজা করতে লাগল, যা তাদের বিরাট পাপের সূচনা করেছিল। এই ঘটনাটি তাদের অবাধ্যতা ও অন্যায় করার নিদর্শন।