● قَالَ یٰۤاٰدَمُ اَنۡۢبِئۡهُمۡ بِاَسۡمَآئِهِمۡ
"তিনি বললেন, হে আদম! তাদের নামসমূহ আমাকে বলো" — আল্লাহ আদম (আঃ)-কে ফেরেশতাদের সামনে সেই সমস্ত নাম বলে দিতে নির্দেশ দিলেন যেগুলো তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, যেন তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয়।
● فَلَمَّاۤ اَنۡۢبَاَهُمۡ بِاَسۡمَآئِهِمۡ
"তখন যখন তুমি তাদের নামসমূহ বললে" — আদম (আঃ) আল্লাহর নির্দেশ পালন করে প্রত্যেক বস্তু ও জিনিসের নাম ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন।
● قَالَ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکُمۡ
"তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের না বলেছিলাম" — আল্লাহ ফেরেশতাদের স্মরণ করালেন যে, তিনি আগে থেকেই জানতেন ও ঘোষণা করেছিলেন যে আদম (আঃ) বিশেষ জ্ঞানী।
● اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ غَیۡبَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ
"আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য জ্ঞানী" — আল্লাহর সমস্ত গোপন বিষয় ও অদৃশ্য জ্ঞান তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ফেরেশতারা জানে না।
● وَ اَعۡلَمُ مَا تُبۡدُوۡنَ وَ مَا کُنۡتُمۡ تَکۡتُمُوۡنَ
"আমি যা প্রকাশ করো এবং যা গোপন করো তা জানি" — আল্লাহ জানেন প্রত্যেকের অন্তরের কথা ও গোপনকৃত বিষয়।
এই আয়াতে আল্লাহ আদম (আঃ)-কে শিক্ষা দিয়ে ফেরেশতাদের সামনে তাঁর বিশেষ জ্ঞান প্রদর্শন করলেন, যা আল্লাহর গোপন রহস্য, আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। এই তাফসীর থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর জ্ঞান সীমাহীন এবং তিনি সবকিছু জানেন। ফেরেশতারা তাদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছিল, তাই তারা আদম (আঃ) এর বিশেষ জ্ঞান স্বীকার করল।
● আল্লাহর পরিপূর্ণ জ্ঞান — আল্লাহ সব গোপন ও প্রকাশিত বিষয় সম্পর্কে অবগত।
● আদম (আঃ) এর মর্যাদা — আল্লাহ তাকে বিশেষ জ্ঞান দিয়েছেন যা ফেরেশতাদের নেই।
● জ্ঞান ও গোপনীয়তার গুরুত্ব — আল্লাহ সকলের অন্তর এবং গোপন বিষয় জানেন।
● মানুষের জ্ঞানের সীমা — ফেরেশতারা স্বীকার করল তাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ।
এই আয়াত সূরা আল-বাকারার আদম ও ফেরেশতাদের মধ্যে আল্লাহর প্রদত্ত জ্ঞান ও খিলাফতের বিষয় আলোচনার অংশ। এটি মদিনায় অবতীর্ণ, যেখানে আদমের প্রতি আল্লাহর বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। এটি ফেরেশতাদের সীমাবদ্ধতা ও মানব জাতির উচ্চতর মর্যাদা প্রদর্শন করে।