● قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ
"তারা বলল, আপনি পবিত্র!" — ফেরেশতারা আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা স্বীকার করে বলল, তিনি সব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত।
● لَا عِلۡمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمۡتَنَا
"আমাদের কোনো জ্ঞান নেই, আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন তা ছাড়া" — ফেরেশতারা নিজেদের সীমিত জ্ঞান স্বীকার করে বলল, তারা যা জানে তা একমাত্র আল্লাহর শিক্ষা অনুযায়ী। এর বাইরে তাদের কোনো ক্ষমতা নেই।
● اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ
"নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" — তারা আল্লাহর গুণাবলি ঘোষণা করল যে তিনি পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী এবং তাঁর সব কাজ গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও হিকমতের ভিত্তিতে।
এই আয়াতে ফেরেশতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নেয় এবং আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞানের প্রশংসা করে। তারা বুঝে যায় যে, আদম (আঃ)-কে আল্লাহ যে জ্ঞান দিয়েছেন, তা তাদের নেই এবং তারাই খিলাফতের উপযুক্ত। এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়— জ্ঞান একটি ইলাহী দান, যা কাউকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে।
● আল্লাহর পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব — ফেরেশতারা স্বীকার করে নেয় যে, আল্লাহ সকল ত্রুটিমুক্ত ও পবিত্র।
● মানব জাতির জ্ঞানের মর্যাদা — ফেরেশতারা যখন নিজেরা অজ্ঞতা স্বীকার করে, তখন প্রমাণিত হয় যে আল্লাহ আদম (আঃ)-কে বিশেষ গুণে গুণান্বিত করেছেন।
● আত্মজ্ঞান ও নম্রতা — ফেরেশতারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নম্রতার পরিচয় দিয়েছে, যা আমাদেরও শিক্ষা নেয়া উচিত।
● আল্লাহর শিক্ষা ব্যতীত কেউ জ্ঞানী নয় — সব জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, তিনি না দিলে কেউ কিছুই জানতে পারে না।
এই আয়াত সূরা আল-বাকারা’র প্রারম্ভিক অংশের অন্তর্ভুক্ত। এখানে আদম (আঃ)-কে জ্ঞান দানের ঘটনা এবং ফেরেশতাদের জ্ঞানের সীমা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে বোঝানো যায় যে খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের জন্য কেবল ইবাদত যথেষ্ট নয়, বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধ থাকা আবশ্যক। এটি মদিনার ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বংশগত গর্ব ও অন্ধ শ্রেষ্ঠত্ববোধের জবাব হিসেবেও কাজ করেছে।