● وَ عَلَّمَ اٰدَمَ الۡاَسۡمَآءَ کُلَّهَا
"আর আল্লাহ আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন" — অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সমস্ত জিনিসের নাম, বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে জ্ঞানের ক্ষমতা ফেরেশতাদের চেয়ে ভিন্ন ও উচ্চতর, আর এ কারণেই সে প্রতিনিধি (খলীফা) হতে উপযুক্ত।
● ثُمَّ عَرَضَهُمۡ عَلَی الۡمَلٰٓئِکَۃِ
"তারপর তা ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন" — এখানে আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে সেই বস্তু বা সৃষ্টি উপস্থাপন করেন, যাদের নাম আদম (আঃ)-কে শেখানো হয়েছিল, যেন তাদের সীমিত জ্ঞানের সীমা প্রকাশিত হয়।
● فَقَالَ اَنۡۢبِـُٔوۡنِیۡ بِاَسۡمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ
"বললেন, তোমরা আমাকে এদের নাম বলে দাও" — এটা ছিল ফেরেশতাদের প্রতি এক চ্যালেঞ্জ, যাতে প্রমাণ হয় যে, আদম (আঃ)-কে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে যা ফেরেশতাদের নেই।
● اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
"যদি তোমরা সত্যবাদী হও" — অর্থাৎ যদি তোমরা দাবী করো যে খলীফার দায়িত্ব তোমাদেরই উপযুক্ত, তাহলে এসবের জ্ঞান তোমাদের থাকা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা ছিল না।
এই আয়াতে আল্লাহ আদম (আঃ)-কে জ্ঞান দান করে প্রমাণ করেন যে, তিনিই মানবজাতিকে খলীফার জন্য নির্বাচিত করেছেন বিশেষ গুণাবলির কারণে। ফেরেশতারা শুধু তাসবীহ ও ইবাদত জানে, কিন্তু আদম (আঃ) জ্ঞান, বিশ্লেষণ, নামকরণ ও বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এটি মানবজাতির মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তি।
● মানবজাতির জ্ঞানের মর্যাদা — আল্লাহ আদম (আঃ)-কে জ্ঞান দান করে দেখিয়েছেন যে জ্ঞানই তাকে অন্য সৃষ্টির তুলনায় শ্রেষ্ঠ করেছে।
● মানুষের খিলাফত ও দায়িত্ব — খলীফা হওয়া মানে শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব, জ্ঞান, ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
● ফেরেশতাদের সীমাবদ্ধতা — ফেরেশতারা পূর্ণভাবে ইবাদতকারী হলেও সব জ্ঞান তাদের নেই। তাই খিলাফত তাদের নয়।
● শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব — আল্লাহ নিজেই আদম (আঃ)-কে শিক্ষা দিয়েছেন — এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষালাভ একটি ইলাহী নির্দেশ ও সম্মান।
এই আয়াতটি সূরা আল-বাকারা'র প্রথম দিকের আয়াতগুলোর অংশ, যা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এখানে আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আদম (আঃ)-এর মর্যাদা ও খিলাফতের উপযুক্ততা তুলে ধরেন। এটি ইহুদিদের সামনে একটি বাস্তব উদাহরণ ছিল যারা নিজেদের বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করত, অথচ খিলাফতের প্রকৃত মানদণ্ড ছিল জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ।