یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ
(ইয়াগফির লাকুম জুনূবাকুম)
তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন।
আল্লাহর পথে আত্মত্যাগ এবং প্রকৃত ঈমান গ্রহণের ফলাফল হিসেবে প্রথম পুরস্কার হলো—গুনাহ মাফ। এটি মানুষের আখিরাতের মুক্তির প্রধান শর্ত।
وَ یُدۡخِلۡکُمۡ جَنّٰتٍ
(ওয়া ইউদখিলকুম জান্নাতিন)
আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
গুনাহ মাফের পর জান্নাতে প্রবেশ এক বিশাল পুরস্কার, যা ঈমানদারদের প্রতিশ্রুতি।
تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ
(তাজরী মিং তাহতিহাল আনহারু)
যার নিচ দিয়ে নদীগুলো প্রবাহিত হয়।
এটি জান্নাতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা শান্তি, অপার সুখ ও নির্মল পরিবেশের প্রতীক।
وَ مَسٰکِنَ طَیِّبَۃً
(ওয়া মাসাকিনা ত্বাইয়্যিবাতান)
এবং বসবাসের জন্য পবিত্র আবাস।
জান্নাতে থাকবে পরিষ্কার, শান্তিপূর্ণ এবং সম্মানজনক ঘর, যা দুনিয়ার কোনো বাসস্থানের সঙ্গে তুলনীয় নয়।
فِیۡ جَنّٰتِ عَدۡنٍ
(ফী জান্নাতি আদনিন)
জান্নাতুল আদনে—চিরস্থায়ী জান্নাত।
"আদন" মানে স্থায়ী বাসস্থান। জান্নাতুল আদন হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সম্মানজনক স্থান।
ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ
(যালিকাল ফাওযুল ‘আযীম)
এটাই হলো মহাসফলতা।
সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভ, যা দুনিয়ার যেকোনো সফলতার চেয়ে অনেক বড়।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের এমন এক ব্যবসার ফলাফল জানাচ্ছেন যা তাঁর সাথে ঈমান এবং সংগ্রামের বিনিময়ে মুমিনদের জীবনে এনে দেবে চিরস্থায়ী সফলতা। এই পুরস্কার কেবল জান্নাত নয়, বরং তার আগে গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি।
জান্নাতে যে বসবাসের স্থান দেওয়া হবে, তা হবে পবিত্র, প্রশান্তিময় ও স্থায়ী। “জান্নাতুল আদন” অর্থাৎ যেখানে অনন্তকাল স্থায়ী শান্তি ও সুখ বিরাজ করবে।
সবশেষে বলা হয়েছে, এটাই প্রকৃত ও মহান সাফল্য—কারণ দুনিয়ার সব অর্জন সাময়িক, কিন্তু জান্নাত চিরস্থায়ী।
আল্লাহর পথে ঈমান ও জিহাদের বিনিময়ে মুমিনরা চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করবে।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের শুধু গুনাহ মাফ করেন না, বরং তাদেরকে সর্বোচ্চ পুরস্কার দেন।
জান্নাত একটি বাস্তবিক স্থান, যা নদী, ঘরবাড়ি এবং সুখের আবাসস্থলে পরিপূর্ণ।
আখিরাতের সফলতা—গুনাহ মাফ ও জান্নাতে প্রবেশ—এইটাই প্রকৃত বিজয়, যা প্রতিটি মুসলমানের কাম্য হওয়া উচিত।
এই আয়াতটি সূরা আস-সফ-এর ধারাবাহিকতায় অবতীর্ণ, যেখানে মুমিনদের একটি ‘ব্যবসায়িক প্রস্তাব’ দেওয়া হয়। আগের আয়াতে (আয়াত ১১) বলা হয়েছিল, তোমরা যদি ঈমান আনো এবং জিহাদ করো, তবে এর ফলাফল এই আয়াতে বলা হলো—গুনাহ মাফ, জান্নাত, শান্তিপূর্ণ বসবাস এবং মহান সাফল্য।
এটি মক্কী মুসলমানদের জন্য যেমন আশার বাণী, তেমনি পরবর্তীকালের সকল মুমিনদের জন্যও দিকনির্দেশনা ও প্রেরণার উৎস।