یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ (তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন): সেই মুক্তিদায়ক ব্যবসার (ঈমান ও জিহাদ) প্রথম পুরস্কার হলো গুনাহের মার্জনা। মানুষের সবচেয়ে বড় বাধা হলো তার অপরাধ; আল্লাহ সেই বাধা দূর করে বান্দাকে পবিত্র করে দেন।
وَ یُدۡخِلۡکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ (এবং তিনি তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়): ক্ষমার পর দেওয়া হবে চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গা। কুরআনের ভাষায় জান্নাতের বর্ণনায় ঝর্ণাধারার উল্লেখ সজীবতা ও অফুরন্ত নেয়ামতের প্রতীক।
وَ مَسٰکِنَ طَیِّبَۃً فِیۡ جَنّٰتِ عَدۡনٍ (এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম ঘরবাড়ি দান করবেন): জান্নাতবাসীদের জন্য থাকবে সুরম্য প্রাসাদ ও পবিত্র ঘরবাড়ি, যেখানে কোনো ক্লান্তি বা দুঃখ নেই। 'আদন' অর্থ হলো এমন জায়গা যেখান থেকে আর বের হতে হবে না।
ذٰلِকَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡমُ (এটিই হলো মহা সফলতা): দুনিয়ার সব রাজত্ব বা ধন-সম্পদ এই সফলতার কাছে তুচ্ছ। আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভ করাই একজন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত অর্জন।
ব্যাখ্যা: সূরা আস-সাফ-এর ১২ নম্বর এই আয়াতে সেই ব্যবসার 'মুনাফা' বা প্রতিদান বর্ণনা করা হয়েছে। এর আগের আয়াতে (১১ নং) আল্লাহ বিনিয়োগের কথা বলেছিলেন (ঈমান ও জিহাদ)। এখানে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করছেন যে, কেউ যদি তাঁর পথে জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করে, তবে তিনি কেবল তার পাপ মোচনই করবেন না, বরং তাকে চিরস্থায়ী জান্নাতের রাজত্ব দান করবেন। এটিই হলো মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা: ১. ক্ষমা লাভ করাই হলো জান্নাতে যাওয়ার প্রথম ধাপ। ২. আল্লাহর পথে ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ জান্নাতের নেয়ামত নির্ধারণ করে রেখেছেন। ৩. জান্নাতের ঘরবাড়ি ও পরিবেশ হবে দুনিয়ার সব কল্পনার চেয়েও পবিত্র ও সুন্দর। ৪. আখেরাতের সফলতাকেই কুরআন 'মহা সফলতা' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। ৫. জান্নাত হলো এক শাশ্বত নিবাস, যেখানে একবার প্রবেশ করলে আর কোনোদিন মৃত্যু বা নির্বাসন নেই।
যখন আগের আয়াতে আল্লাহ ব্যবসা ও বিনিয়োগের শর্তগুলো দিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম কৌতূহলী ছিলেন এই ব্যবসার ফল কী হবে তা জানার জন্য। দুনিয়ার ব্যবসা তো নগদ লাভের ওপর ভিত্তি করে চলে, তাই আল্লাহ মুমিনদের পরকালের নগদ ও চিরস্থায়ী লাভের নিশ্চয়তা দিয়ে এই আয়াত নাযিল করেন। এটি মুমিনদের অন্তরের সংশয় দূর করে ত্যাগের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা জোগাতে অবতীর্ণ হয়।