تُؤۡمِنُوۡনَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ (তোমরা আল্লাহর ওপর এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে): এটি সেই 'ব্যবসা'র প্রথম শর্ত যা আগের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। মৌখিক স্বীকারোক্তি নয়, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অটল ও অবিচল বিশ্বাসই হলো সফলতার মূল ভিত্তি।
وَ تُجَاهِدُوۡনَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ بِاَمۡوَালِکُمۡ وَ اَنۡفُسِکُمۡ (এবং তোমরা তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে): ঈমানের বাস্তব প্রমাণ হলো ত্যাগ। দ্বীনের প্রয়োজনে নিজের অর্জিত সম্পদ ব্যয় করা এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই মহতী ব্যবসার প্রধান বিনিয়োগ।
ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ (এটিই তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর): মানুষ অনেক সময় দুনিয়ার আরাম ও সম্পদকে আঁকড়ে ধরাকে লাভজনক মনে করে। কিন্তু আল্লাহ জানাচ্ছেন যে, তাঁর পথে সম্পদ ও জীবন ব্যয় করাতেই প্রকৃত ও স্থায়ী কল্যাণ নিহিত।
اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡনَ (যদি তোমরা জানতে বা বুঝতে পারতে): এটি মানুষের সীমিত জ্ঞান ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত। আখেরাতের অসীম প্রতিদানের তুলনায় দুনিয়ার ত্যাগ যে কতটা নগণ্য, তা গভীর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষই কেবল বুঝতে পারে।
ব্যাখ্যা: সূরা আস-সাফ-এর ১১ নম্বর এই আয়াতে সেই মুক্তিদায়ক ব্যবসার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের কাছে দুটি জিনিস চেয়েছেন: ১. নিখাদ ঈমান এবং ২. জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা বা জিহাদ। এটি কোনো একতরফা দান নয়, বরং একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা ব্যবসা, যেখানে বান্দার নগণ্য ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ দিচ্ছেন অনন্ত সুখের জান্নাত।
শিক্ষা: ১. ঈমান ও আমল (বিশেষ করে জিহাদ) একে অপরের পরিপূরক। ২. কেবল অর্থ সাহায্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে সশরীরে দ্বীনের কাজে অংশ নিতে হবে। ৩. সম্পদ ও জীবন আল্লাহর দেওয়া আমানত, যা তাঁর পথেই ব্যয় করা বুদ্ধিমানের কাজ। ৪. আখেরাতের লাভই হলো মুমিনের জীবনের আসল মুনাফা। ৫. জাগতিক স্বার্থের চেয়ে দ্বীনি স্বার্থকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে।
যখন আগের আয়াতে (১০ নং আয়াত) আল্লাহ মুমিনদের এক লাভজনক ব্যবসার প্রস্তাব দিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত আগ্রহের সাথে সেই ব্যবসার প্রকৃতি জানতে চাইলেন। তারা মনে করেছিলেন হয়তো এতে অনেক টাকা-পয়সা বা কঠিন কোনো শর্ত থাকবে। তাদের সেই কৌতূহল মেটাতে এবং দ্বীনের আসল রূপ তুলে ধরতে আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন। এটি মুমিনদের অন্তরের ব্যাকুলতা দূর করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দেয়।