تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ
(তু’মিনূনা বিল্লাহি)
তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনো।
আল্লাহর একত্ব, সব গুণ ও গুণাবলীতে বিশ্বাস করা ঈমানের মূল ভিত্তি।
وَ رَسُوۡلِهٖ
(ওয়া রাসূলিহি)
এবং তাঁর রাসূলের উপর।
রাসূল (সা.)-এর প্রেরিত বার্তা, জীবনাচার এবং হেদায়াতের উপর বিশ্বাস রাখা ঈমানের অপরিহার্য অংশ।
وَ تُجَاهِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ
(ওয়া তুজাহিদূনা ফী সাবিলিল্লাহি)
এবং আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করো।
এখানে জিহাদ বলতে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং দ্বীনের প্রচার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, আত্মসংযম এবং ত্যাগ বোঝানো হয়েছে।
بِاَمۡوَالِکُمۡ وَ اَنۡفُسِکُمۡ
(বিআমওয়ালিকুম ওয়া আনফুসিকুম)
তোমাদের ধন-সম্পদ ও জান দিয়ে।
আল্লাহর রাস্তায় ধন ও জীবন উৎসর্গ করাকে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ
(যালিকুম খাইরুল্লাকুম)
এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়তর।
অর্থাৎ, এই ইবাদত, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের পথই প্রকৃত কল্যাণের পথ।
اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
(ইন কুনতুম তা‘লামূন)
যদি তোমরা জানতে।
এখানে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির অন্তর্দৃষ্টিকে জাগ্রত করতে চাচ্ছেন—যদি তারা প্রকৃত কল্যাণ বুঝত, তবে নিঃসন্দেহে এই পথই বেছে নিত।
এই আয়াতটি আগের আয়াতের (সূরা আস-সফ, আয়াত ১০) পরিপূরক, যেখানে আল্লাহ 'বাণিজ্যের' প্রস্তাব দিয়েছেন। এই আয়াতে তিনি সেই 'বাণিজ্যের' বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
ঈমান, রাসূলের প্রতি বিশ্বাস, আল্লাহর পথে সংগ্রাম, ত্যাগ—এই সব মিলিয়েই গঠিত হয় সেই উত্তম বাণিজ্য যা মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে সফলতা দান করে।
এই সংগ্রাম কেবল বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে, পাপের বিরুদ্ধে, সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে—যা আল্লাহর রাস্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক।
ঈমান শুধু মুখের কথা নয়, বরং তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।
আল্লাহর পথে ধন ও জান উৎসর্গ করাকে সর্বোত্তম কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মুমিনের জন্য এই আত্মত্যাগই প্রকৃত কল্যাণ এবং চূড়ান্ত লাভজনক বিনিয়োগ।
দ্বীনের প্রতিষ্ঠা, হেদায়াতের ছড়িয়ে দেওয়া ও জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একজন ঈমানদারের অন্যতম দায়িত্ব।
এই আয়াতটি মদিনার জীবনে অবতীর্ণ হয়, যখন মুসলমানরা যুদ্ধ, কষ্ট ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইসলামের ভিত্তি গড়ছিল। আল্লাহ তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই আত্মত্যাগ কোনো ক্ষতির কাজ নয় বরং লাভজনক এক চুক্তি, যা আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি ও জান্নাতের পথ খুলে দেবে। এইভাবে আয়াতটি সাহাবাদের মনোবল দৃঢ় করে তোলে এবং ভবিষ্যৎ মুমিনদের জন্যও আদর্শ পথনির্দেশনা দেয়।