وَ اُخۡرٰی تُحِبُّوۡنَهَا
(ওয়া উখরা তুহিব্বূনাহা)
-আর আরও একটি আছে যা তোমরা ভালোবাসো
এখানে "আরও একটি" বলতে ঐ পুরস্কার বোঝানো হয়েছে যা মুমিনদের হৃদয়ের প্রিয়—তা হলো দুনিয়ায় বিজয় ও সম্মান। কারণ পূর্ববর্তী আয়াতে আখিরাতের পুরস্কারের কথা বলা হয়েছিল, এখন বলা হচ্ছে দুনিয়ার পুরস্কার সম্পর্কে।
نَصۡرٌ مِّنَ اللّٰهِ
(নাসরুম মিনাল্লাহি)
-আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য
এই সাহায্য মানে হলো—দুশমনের বিরুদ্ধে বিজয়, রূহানিয়াতের শক্তি এবং আল্লাহর বিশেষ সহায়তা, যা সত্যের পক্ষে সংগ্রামরতদের জন্য অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করে।
وَ فَتۡحٌ قَرِیۡبٌ
(ওয়া ফাত্হুন ক্বরীব)
-এবং এক নিকটবর্তী বিজয়
এই বিজয় কেবল আখিরাতের নয়, বরং দুনিয়ার ময়দানেও হবে। এটি নবী ﷺ-এর যুগে মক্কা বিজয় ও ইসলামের দ্রুত প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। “নিকটবর্তী” দ্বারা বোঝানো হয়েছে, এ বিজয় অচিরেই ঘটবে।
وَ بَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
(ওয়া বাশ্শিরিল মুমিনীন)
-আর আপনি সুসংবাদ দিন ঈমানদারদের
এটি নবী করিম ﷺ-কে নির্দেশ, যেন তিনি সাহাবায়ে কিরাম এবং ভবিষ্যতের সব মুমিনদের এই আশাব্যঞ্জক বার্তা দেন—আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
এই আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর ধারাবাহিকতায় এসেছে। যেখানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জান্নাত ও আখিরাতের সাফল্যের কথা বলেছিলেন, এখন তিনি বলছেন—তোমাদের আরও একটি প্রিয় বিষয় আছে, সেটা হলো দুনিয়ায় বিজয় ও সম্মান। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যারা সত্যিকার ঈমানদার ও আল্লাহর রাস্তায় চেষ্টা করে, তিনি তাঁদের দুনিয়াতেও সাহায্য করবেন এবং বিজয় দান করবেন।
এই আয়াত নবী ﷺ-এর সাহাবীদের দুশমনদের সাথে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং কষ্টের প্রতিদানস্বরূপ আশার আলো দেখায়।
ইসলাম কেবল আখিরাতমুখী নয়, বরং দুনিয়ার উন্নতিও কাম্য করে এবং সেই পথ দেখায়।
যারা আল্লাহর পথে চেষ্টা করে, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কৃত করেন।
আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় কেবল বাহ্যিক শক্তির ফল নয়, বরং তা আসে ঈমান, একতা এবং আল্লাহর উপর নির্ভরতার মাধ্যমে।
একজন মুমিন কখনো হতাশ হয় না, বরং সে জানে—আল্লাহর সাহায্য খুব কাছেই।
এই আয়াত সূরা আস-সফ (আয়াত ১৩) এর অংশ। এটি মক্কা বিজয়ের পূর্বে, যখন মুসলিমরা অনেক কষ্টে ছিল, সেই সময় নাযিল হয়। আল্লাহ তাআলা সাহাবীদের আশ্বস্ত করেন—তোমরা শুধু আখিরাতে নয়, দুনিয়াতেও বিজয় পাবে। খুব শিগগিরই মক্কা মুসলমানদের হাতে আসবে, আর ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।