یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا
(ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানূ)
হে মুমিনগণ!
আল্লাহ তাআলা সরাসরি ঈমানদারদের উদ্দেশ্যে আহ্বান করছেন। এ ধরণের সম্বোধন সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাতে ব্যবহৃত হয়।
هَلۡ اَدُلُّکُمۡ
(হাল আদুল্লুকুম)
আমি কি তোমাদের দিকনির্দেশনা দেব?
এখানে একটি প্রস্তাবনা দেয়া হচ্ছে—আল্লাহ একটি অফার করছেন যেন শ্রোতারা মনোযোগ দেয়।
عَلٰی تِجَارَۃٍ
(আলা তিজারাতিন)
একটি বাণিজ্যের প্রতি,
আল্লাহ এখানে ‘তিজারাহ’ (বাণিজ্য) শব্দ ব্যবহার করেছেন যেন মানুষ আগ্রহী হয়, কারণ বাণিজ্যে লাভের আশা থাকে। কিন্তু এটি পার্থিব বাণিজ্য নয়, বরং আখিরাতমুখী।
تُنۡجِیۡکُمۡ
(তুনজীকুম)
যা তোমাদের মুক্তি দেবে,
এটি একটি পরিণাম—এই বিশেষ বাণিজ্যের সুফল হলো পরিত্রাণ।
مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ
(মিন ‘আযাবিন আলীম)
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে।
এখানে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির কথা বোঝানো হয়েছে। মানুষ সাধারণত লাভের আশায় ব্যবসা করে, কিন্তু এখানে মূল লাভ হলো আখিরাতের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের উদ্দেশ্যে এক মহান ‘বাণিজ্যের’ কথা বলেছেন। এটি একটি রূপকভাবে উপস্থাপিত দাওয়াত, যেখানে পার্থিব বাণিজ্যের লাভের বদলে আখিরাতে মুক্তির প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রশ্ন আকারে বলা হয়েছে, যেন হৃদয় আরও মনোযোগ দেয় এবং আগ্রহ বাড়ে।
এই ‘তিজারাহ’-এর প্রকৃত ব্যাখ্যা পরবর্তী আয়াতে এসেছে—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ঈমান আনা, আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে চেষ্টা করা। এই ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গই সেই প্রকৃত বাণিজ্য, যার মাধ্যমে মুমিনরা পেতে পারে অনন্ত মুক্তি।
ইসলাম আমাদেরকে আখিরাতের মুক্তি লাভের জন্য বুদ্ধিবানদের মত চিন্তা করতে আহ্বান করে।
পার্থিব লাভ-লোকসানের চিন্তা যেভাবে মানুষকে চালিত করে, ঠিক তেমনই আখিরাতের লাভকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্বীনের পথে জান-মাল ব্যয় করাকে আল্লাহ ‘বাণিজ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যাতে আমরা তা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করি।
এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কেবল বিশ্বাসই নয়, বরং বিশ্বাসের প্রমাণ হিসেবে আত্মত্যাগ আবশ্যক।
এই আয়াতটি সূরা আস-সফ-এর অন্তর্ভুক্ত, যা নাযিল হয়েছিল মদীনায়। এ সময় মুসলমানরা দ্বীন কায়েমের জন্য জান-মাল দিয়ে সংগ্রাম করছিল। এই আয়াত মুমিনদের উৎসাহ ও প্রেরণা দেয় যে, তাদের কষ্ট, ত্যাগের কারণে তারা আখিরাতে এক অনন্ত পুরস্কারের জন্য একটি ‘বাণিজ্য’ করছে, যার লাভের সীমা নেই।