یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡনَ اٰمَنُوۡا (হে মুমিনগণ!): আল্লাহ তা'আলা পরম মমতায় বিশ্বাসীদের সম্বোধন করছেন। এটি একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সম্বোধন যা মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে।
هَلۡ اَدُلُّکুমۡ عَلٰی تِجَارَۃٍ (আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব?): এখানে আল্লাহ একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে তোলার জন্য। সাধারণ ব্যবসায় লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, কিন্তু আল্লাহ এমন এক ব্যবসার কথা বলছেন যাতে কেবলই লাভ।
تُنۡجِیۡکُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡমٍ (যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে): এই ব্যবসার প্রথম ও প্রধান মুনাফা হলো পরকালের ভয়াবহ আযাব থেকে রেহাই পাওয়া। দুনিয়ার সম্পদ মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারে না, কিন্তু এই বিশেষ ব্যবসাটি তা সম্ভব করবে।
ব্যাখ্যা: সূরা আস-সাফ-এর ১০ নম্বর এই আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের এক অভাবনীয় লাভের ব্যবসার কথা বলেছেন। মানুষ সহজাতভাবেই লাভজনক ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ এখানে ঈমান ও জিহাদকে 'ব্যবসা'র সাথে তুলনা করেছেন। এই ব্যবসার মূলধন হলো ঈমান আর পরিশ্রম হলো আল্লাহর পথে জিহাদ ও ত্যাগ; আর এর বিনিময়ে প্রাপ্ত মুনাফা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি।
শিক্ষা: ১. মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আখেরাতের মুক্তি। ২. আল্লাহর পথে জীবন ও সম্পদ ব্যয় করা মূলত এক লাভজনক বিনিয়োগ। ৩. দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মুনাফার চেয়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী নিষ্কৃতি অনেক বেশি দামী। ৪. আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এই অফার গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ৫. হিদায়াত ও মুক্তির পথ খুঁজতে হলে আল্লাহর নির্দেশিত এই 'ব্যবসা'র পদ্ধতি জানতে হবে।
হযরত কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, এই আয়াতটি তখন নাযিল হয় যখন সাহাবায়ে কেরাম আরজ করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমরা জানতাম যে কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়, তবে আমরা আমাদের জান-মাল দিয়ে তা সম্পাদন করতাম।" তখন আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াতগুলো নাযিল করে সেই প্রিয়তম কাজের (ঈমান ও জিহাদ) পথ দেখিয়ে দেন। এটি মুমিনদের অন্তরের ব্যাকুলতা দূর করে কর্মতৎপরতা বাড়িয়ে দিতে অবতীর্ণ হয়।