هُوَ الَّذِیۡۤ
(হুয়াল্লাযী)
তিনিই,
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা; এখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে কাজটি একমাত্র আল্লাহরই।
اَرۡسَلَ رَسُوۡلَهٗ
(আর্সালা রাসূলাহু)
তিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন,
এখানে নবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে বোঝানো হয়েছে, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য প্রেরিত।
بِالۡهُدٰی
(বিল হুদা)
সাথে নিয়ে হিদায়াত,
অর্থাৎ সঠিক পথ, আলোর দিশা, যা কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে নিয়ে যায়।
وَ دِیۡنِ الۡحَقِّ
(ওয়া দীনিল হাক্কি)
এবং সত্য দ্বীন,
অর্থাৎ ইসলাম—আল্লাহর মনোনীত জীবনব্যবস্থা, যার মধ্যে রয়েছে পূর্ণতা, ন্যায়, ও হিদায়াত।
لِیُظۡهِرَهٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّهٖ
(লিইউযহিরাহু ‘আলাদ্দীনি কুল্লিহি)
যাতে তিনি একে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করেন,
অর্থাৎ ইসলামকে সমস্ত বাতিল মতবাদ ও ধর্মব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন। এখানে বিজয়ের অর্থ হলো: প্রমাণ, যুক্তি, প্রভাব, এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিজয়ও।
وَ لَوۡ کَرِهَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ
(ওয়ালাও কারিহাল মুশরিকূন)
যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
অর্থাৎ যারা একাধিক উপাস্যে বিশ্বাসী বা আল্লাহর সাথে শরিক করে, তারা চাইলেও ইসলামের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর দায়িত্ব ও সফলতা সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর প্রেরিত রাসূল শুধু একটি জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন।
ইসলামের প্রাথমিক সময়েই এই ঘোষণা করা হয়েছিল, যখন ইসলাম ছিল দুর্বল। এরপর সময়ের সাথে সাথে ইসলাম জ্ঞানে, বিশ্বাসে ও শক্তিতে বহু ধর্মকে ছাপিয়ে যায়। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, মুশরিকদের বিরোধিতা সত্ত্বেও।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত জীবনব্যবস্থা, যা আল্লাহ প্রদত্ত।
ইসলামের বিজয় অবধারিত, তা শত্রুরা যতই বিরোধিতা করুক না কেন।
আমাদের উচিত রাসূলের দায়িত্ব অনুসরণ করে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া।
ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব যুক্তি, জ্ঞান ও নৈতিকতার মাধ্যমে প্রতিপাদিত হয়েছে এবং আরও হবে।
এই আয়াতটি মূলত তখন নাযিল হয়েছিল, যখন মুসলমানরা মক্কা এবং আরব জুড়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। কাফির ও মুশরিকরা ইসলামকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। তখন আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতের বিজয়ের সুসংবাদ দেন। পরবর্তীতে এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে রূপ নেয়—নবী (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ইসলাম আরবের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, আর তার পরের যুগগুলোতে ইসলাম হয়ে ওঠে বিশ্বজনীন একটি ধর্ম ও জীবনব্যবস্থা।