كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ
(কাবুরা মাকতান ইন্দাল্লাহি)
এটি আল্লাহর কাছে একটি বড় অপছন্দনীয় বিষয়।
এখানে "কাবুরা" শব্দটির অর্থ "বড়" বা "গম্ভীর"। অর্থাৎ, যে কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয়, তা হল কথা ও কাজে অমিল থাকা। যখন কোনো মানুষ যা বলে, সেটি সে নিজে অনুসরণ করে না, এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত।
أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ
(আন তকূলূনা মাআ লা তাফ্আলূন)
তোমরা সে কথা বলো, যা তোমরা নিজে করো না।
এটি একটি তিরস্কার, যা তাদের প্রতি প্রয়োগ করা হচ্ছে যারা অন্যদের ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করে কিন্তু নিজেরাই তা পালন করে না।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সতর্ক করছেন যারা অন্যদেরকে কাজ করতে বললেও নিজেদের কর্মে তা পালন করেন না। আল্লাহর কাছে এটি এমন এক বড় অপরাধ, যা একজন মুমিনের চরিত্রে থাকা উচিত নয়। ধর্মীয় বা নৈতিক উপদেশ প্রদানকারীরা যদি নিজেদেরই সেই উপদেশ পালন না করেন, তবে তাদের উপদেশ ও শিক্ষার গুরুত্ব শূন্য হয়ে যায়। এই বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে, একজন মুমিনের কথা ও কাজের মধ্যে পরিপূর্ণ সঙ্গতি থাকতে হবে।
এখানে আল্লাহ এক ধরনের নৈতিক সতর্কতা প্রদান করছেন, যাতে মুসলমানরা নিজের অবস্থান ও কর্মে সততা বজায় রাখেন এবং তাদের কথার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ করে মানুষের সামনে উদাহরণ স্থাপন করেন।
– আমাদের কথার সাথে আমাদের কর্মের সঙ্গতি থাকতে হবে।
– আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ হল কথায় ও কাজে অসঙ্গতি থাকা।
– একজন সৎ মানুষকে তার কথার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ করতে হয়, বিশেষত যখন সে অন্যদেরকে কিছু শেখায়।
– আমাদের উচিত নিজেকে সৎ ও খাঁটি রাখার জন্য আমাদের সমস্ত কাজ এবং কথা আল্লাহর আদেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা।
এই আয়াতটি মূলত মুনাফিকদের বিরুদ্ধে নাযিল হয়েছিল, যারা নিজেদের মধ্যে ইসলামের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কাজ করত, কিন্তু তারা সাধারণ জনগণকে ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করতে উত্সাহিত করত। তাদের দ্বৈত চরিত্রের বিরুদ্ধে এই আয়াতটি এসেছে, যা তাদের অঙ্গীকার এবং বাস্তবতার মধ্যে অসঙ্গতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর সতর্কতা।