يَٰٓاَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا
(ইয়া আয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ)
হে যারা ঈমান এনেছো,
এটি ঈমানদারদের উদ্দেশে আল্লাহর আহ্বান, যেন তারা সতর্ক ও শিক্ষিত হয় এবং আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলে।
لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ
(লিমা তাকূলূনা মাআ লা তাফ্আলূন)
তোমরা কেন সে কথা বলো, যা তোমরা নিজে করো না?
এখানে আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলছেন যারা অন্যদেরকে কোনো কাজ করতে বলে, কিন্তু তারা নিজে তা পালন করে না। এটি একটি তিরস্কার, যা মুমিনদের সততা এবং তাদের কথার ও কাজে একরূপতা রাখার জন্য।
এই আয়াতটি মানুষের মাঝে দ্বৈত চরিত্রের প্রতি আঙুল তোলার একটি গুরুত্বপূর্ন নীতিবাক্য। আল্লাহ্ তাআলা মুমিনদেরকে এইভাবে সতর্ক করছেন যে, তারা যাতে তাদের কথার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ না করে। যারা অন্যদেরকে ভালো কাজের জন্য উত্সাহিত করে, অথচ নিজেরা তা পালন করে না, তাদের সম্পর্কে এই আয়াতটি এসেছে।
এটি এমনকি এক ধরনের আধ্যাত্মিক সতর্কতা। আল্লাহ ইচ্ছা করেন যে, একজন মুসলিম তার কাজের মাধ্যমে অন্যদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করবে। আমাদের যদি কোনো উপদেশ বা শিক্ষা থাকে, তবে সেটি আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত, যাতে তা মানুষের জন্য কার্যকরী হয়।
– মানুষের কথার ও কর্মের মধ্যে সঙ্গতি থাকতে হবে।
– যারা অন্যদের ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করে, তারা নিজেও সে কাজ করতে হবে, নয়তো তাদের উপদেশ শূন্য হতে পারে।
– ঈমানদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল, কথায় ও কাজে সৎ ও নিষ্কলঙ্ক থাকা।
– আমরা যেন নিজেদের কথা এবং কর্মে সততার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকি, এবং আল্লাহ্র নির্দেশনা ও আদর্শ অনুসরণ করি।
এই আয়াতটি মক্কার মুনাফিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল, যারা সাধারণত তাদের কথার মাধ্যমে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ এবং মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু নিজেদের কার্যক্রমে সে কাজ পরিপালন করত না। তাদেরকে সতর্ক করতে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেছেন, যাতে তারা তাদের কথার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কর্ম করতে শুরু করে।