سَبَّحَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْأَرْضِ
(সাব্বাহা লিল্লাহি মা ফি সামাওয়াতি ওয়া মা ফি আল-আরদি)
আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র, যিনি আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীর সব কিছুকে পবিত্রতা ঘোষণা করেন।
এখানে "সাব্বাহা" শব্দটি “পবিত্রতা ঘোষণা করা” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবী, তার সমস্ত সৃষ্টি নিজ নিজ উপায়ে আল্লাহ্র পবিত্রতা ঘোষণা করে। সব কিছুই আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতার প্রতি অভিভূত।
وَهُوَ الْعَزِیزُ الْحَکِیمُ
(ওয়া হুয়াল আজীযু আল হাকীম)
আর তিনি হলেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আল্লাহ্ এর দুই নাম উল্লেখ করা হয়েছে, "আযীয" এবং "হাকীম"।
আযীয: যার শক্তি এবং ক্ষমতা অপরিসীম, যিনি প্রতিটি কাজকে শক্তিশালীভাবে পরিচালনা করেন।
হাকীম: যিনি সর্বদা প্রজ্ঞাপূর্ণ, তাঁর সব কর্মকাণ্ডে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা থাকে।
এই আয়াতটি আল্লাহর গৌরব ও পবিত্রতা প্রকাশ করছে, যে সমস্ত সৃষ্টি, আকাশ ও পৃথিবী, এমনকি সমস্ত সৃষ্টি এবং প্রাণী, তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এগুলোর মধ্যে কোনো কিছুই আল্লাহর আদেশ থেকে বাইরে নয়, এবং সব কিছুই তাঁর ইচ্ছা ও পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার অধীন। তিনি যা চান তা হয়ে থাকে, এবং যা করেন তা সর্বোত্তম থাকে।
এই আয়াতে আল্লাহর গৌরব এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞার প্রতি এক গভীর আকর্ষণ ও সম্মান প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।
– আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর পবিত্রতা ও গৌরব ঘোষণা করে, এবং আমাদের উচিত তাদের থেকে শিক্ষা নেওয়া।
– আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবী, যা কিছু দেখা যায় এবং যা কিছু অদেখা, সবই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
– আল্লাহর পরাক্রম এবং প্রজ্ঞা সম্পর্কে গভীর বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।
– জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর সম্মান, পবিত্রতা এবং পরাক্রমকে স্মরণ করা উচিত।
এই আয়াতটি সাধারণত আল্লাহর পবিত্রতা এবং গৌরব ঘোষণা করার জন্য এসেছে। এটা সমস্ত সৃষ্টি, বিশেষত পৃথিবী এবং আকাশের সৃষ্টি এবং তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা এবং জ্ঞানকে ঘোষণা করার জন্য। এ ধরনের আয়াতগুলি মুমিনদের আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তাঁর মহত্ত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করে।