● هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا
"তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন" — এই অংশে আল্লাহর কুদরত ও অনুগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি শুধু সৃষ্টি করেননি, বরং মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর যাবতীয় জিনিসপত্র — পানি, বায়ু, বৃক্ষ, পশু-পাখি, খনিজ ও খাদ্য — সবই মানুষের উপকারার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে।
● ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ
"তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন" — এখানে "ইস্তাওয়া" অর্থ মনোযোগ প্রদান, উদ্দেশ্য স্থির করা। এটি আল্লাহর সৃষ্টিকর্মে একটি ধাপে ধাপে অগ্রসরতার বর্ণনা। তিনি পৃথিবীর সৃষ্টির পর আকাশ গঠনের দিকে মনোনিবেশ করেন।
● فَسَوّٰىهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ
"আর তিনি তা সাত আকাশে পরিণত করেছেন" — আকাশের স্তরবিন্যাস এখানে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ আকাশকে শুধু সৃষ্টি করেননি, বরং তা নির্দিষ্ট কাঠামো ও স্তরে ভাগ করে সুবিন্যস্ত করেছেন। বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে যে মহাকাশ স্তরবিন্যস্ত এবং একাধিক পর্যায়ে বিভক্ত — যা এই আয়াতের ইঙ্গিতের সঙ্গে মিলে যায়।
● وَ هُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
"আর তিনি সবকিছুর ব্যাপারে সর্বজ্ঞ" — আল্লাহর জ্ঞান সীমাহীন ও সর্বব্যাপী। তিনি সবকিছু জানেন — দৃশ্য ও অদৃশ্য, অতীত ও ভবিষ্যৎ, সূক্ষ্ম ও স্থূল — সবকিছু তাঁর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা প্রথমে পৃথিবীর সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন, যা মানুষের প্রয়োজন ও সুবিধার্থে তৈরি। এরপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন এবং তা সাত স্তরে গঠিত করেছেন। এই আয়াত সৃষ্টিজগতের পর্যায়ক্রমিক কাঠামো তুলে ধরছে এবং সেই স্রষ্টার জ্ঞানের পরিপূর্ণতা প্রকাশ করছে, যিনি এমন সুচারুভাবে সৃষ্টিকে বিন্যস্ত করেছেন। এটি মানুষকে কৃতজ্ঞতা, চিন্তা ও ঈমানের দিকে আহ্বান করে।
● আল্লাহই সকল সৃষ্টির মালিক ও পরিকল্পনাকারী — এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সব কিছু মানুষের উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন।
● জ্ঞান ও কাঠামোবদ্ধ সৃষ্টির পরিচয় — আকাশের সাত স্তরে বিভাজন এবং তার পরিপাটি সজ্জা আল্লাহর সুচিন্তিত পরিকল্পনার পরিচায়ক।
● মানুষের জন্য নিয়ামত — পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন — এটি তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার আহ্বান।
● আল্লাহর জ্ঞান সীমাহীন — এই আয়াত আমাদের শেখায়, আল্লাহ এমন এক সত্তা যাঁর জ্ঞান সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে, তাই তাঁর বিধানেই মানবজীবন পরিচালিত হওয়া উচিত।
এই আয়াত মদীনায় অবতীর্ণ সূরা আল-বাকারা’র শুরুর অংশে নাজিল হয়েছে। মক্কার মুশরিক ও ইয়াহুদিদের মধ্যে অনেকে সৃষ্টিকর্তা থাকলেও তাঁকে এককভাবে উপাসনার যোগ্য মনে করত না। এই আয়াত তাদের ভুল ধারণার জবাব হিসেবে এসেছে — যেখানে আল্লাহ নিজেকে সেই সত্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন যিনি একাই সব সৃষ্টি করেছেন এবং সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন। এতে ঈমানদারদের জন্য ঈমান বৃদ্ধি ও চিন্তার খোরাক রয়েছে।