فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟
(ফা-ইন্ লাম্ তাফ‘আলূ) – অতএব, যদি তোমরা তা না করতে পারো,
অর্থাৎ আগের আয়াতে দেওয়া চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা আনতে যদি তোমরা ব্যর্থ হও—which বাস্তবে তোমরা হবেই।
وَلَن تَفْعَلُوا۟
(ওয়া লান্ তাফ‘আলূ) – এবং তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না,
আল্লাহ ভবিষ্যৎ বলে দিলেন যে, তোমরা এই কাজ (কুরআনের সমতুল্য কিছু রচনা) কখনোই করতে পারবে না। এটি আল্লাহর অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণী, যা আজও সত্য।
فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ
(ফাত্তাকুন্না-র) – তাহলে তোমরা আগুন থেকে বাঁচো,
এটি একটি সতর্কবাণী ও হুঁশিয়ারি—যদি সত্যকে অস্বীকার করো, তবে শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।
ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ
(আল্লাতি ওয়াকূদুহান্-নাসু ওয়াল-হিজারাহ) – যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর,
এই জাহান্নামের আগুনে মানুষ ও পাথরকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পাথর বলতে ব্যাখ্যাকারীরা বলেছেন—অবমাননাকর মূর্তি বা গন্ধক প্রভৃতি।
أُعِدَّتْ لِلْكَٰفِرِينَ
(উ‘ইদ্দাত লিল্-কা-ফিরীন) – যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।
এই জাহান্নাম কেবল অবিশ্বাসীদের জন্য নির্ধারিত, যারা আল্লাহর পথ অস্বীকার করেছে ও সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই আয়াতে পূর্ববর্তী আয়াতের চ্যালেঞ্জের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআনের অনুরূপ কিছু কেউ রচনা করতে পারবে না—এটি চিরন্তন ও অবসানহীন একটি সত্য। অতএব, যারা তা করতে না পারবে, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ পরিণাম। জাহান্নামের আগুন এমন ভয়াবহ যে, তার জ্বালানি হবে মানুষ নিজেই ও কঠিন পাথর।
এখানে ‘তাকওয়া’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে: তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। আর ‘অউইদ্দাত’ (প্রস্তুত করা হয়েছে) শব্দটি প্রমাণ করে যে জাহান্নাম আগে থেকেই তৈরি আছে, কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। এটা ভবিষ্যতের নয়, নিশ্চিত বাস্তবতা।
আল্লাহ তাআলা কুরআনের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার পর জানিয়ে দিলেন—তোমরা যদি তা বিশ্বাস না করো এবং তার মতো কিছু আনতে না পারো, তাহলে তোমাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
এই আয়াতে কুরআনের অমীমাংসিত বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করার পাশাপাশি ঈমান না আনার পরিণতি সম্পর্কে কড়া হুঁশিয়ারি রয়েছে। এটি একদিকে যেমন সত্যের দলিল, তেমনি অন্যদিকে পথভ্রষ্টদের জন্য সতর্কতা।
– কুরআনের মতো কিছু কেউ কখনো আনতে পারবে না—এটি আল্লাহর ঘোষণা।
– যারা তা মানতে অস্বীকার করে, তারা চিরস্থায়ী শাস্তির যোগ্য।
– জাহান্নাম আগে থেকেই প্রস্তুত এবং অত্যন্ত ভয়াবহ।
– সত্য গ্রহণ না করা ও ঈমান না আনার ফলাফল জাহান্নাম।
– ‘তাকওয়া’ গ্রহণ করা—অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে পাপ থেকে বেঁচে থাকা—শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।
এই আয়াতটি সূরা আল-বাকারা (আয়াত ২৪)। পূর্ববর্তী আয়াতে কাফেরদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল কুরআনের মতো একটি সূরা তৈরি করতে। তারা না পারার পর আল্লাহ ঘোষণা দেন—তোমরা পারবে না। অতএব শাস্তির জন্য প্রস্তুত হও।
এই আয়াত নাজিল হয়েছিল মক্কার ও মদীনায় বসবাসকারী মুশরিক ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে, যারা কুরআন ও নবীর সত্যতা নিয়ে সংশয়ে ছিল বা তা অস্বীকার করত। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতির ঘোষণা দিয়ে কুরআনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।