وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ
(ওয়া বাশ্শিরিল্লাযীনা আআমানূ ওয়াআমিলুস্ স্বালিহাত) – এবং তুমি সুসংবাদ দাও তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে,
এখানে আল্লাহ তাআলা সরাসরি নবী (সা.)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের জান্নাতের সুসংবাদ দিতে।
أَنَّ لَهُمْ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ
(আন্না লাহুম জান্নাতিন্ তাজরী মিন্ তাহতিহাল-আনহার) – তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহিত।
জান্নাতের সৌন্দর্য ও প্রশান্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রবাহিত নদীসমূহ, যা জান্নাতবাসীদের জন্য অফুরন্ত শান্তির উৎস।
كُلَّمَا رُزِقُوا۟ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍۭ رِّزْقًۭا قَالُوا۟ هَـٰذَا ٱلَّذِى رُزِقْنَا مِن قَبْلُ
(কুল্লামা রুজিকূ মিন্হা মিন সামারাতির্ রিয্কান, ক্বালূ হাযা ল্লাযী রুজিকনা মিন ক্বাবল) – যখনই তাদেরকে সেখানে কোনো ফলমূল রিজিক হিসেবে দেওয়া হবে, তারা বলবে, “এ তো সেই ফল যা আমাদের পূর্বেও দেওয়া হয়েছিল।”
তারা রঙ ও গন্ধ দেখে পরিচিত মনে করবে, কিন্তু স্বাদ হবে নতুন—এতে বোঝানো হয়েছে জান্নাতের নিয়ামতের বৈচিত্র্য ও অপূর্বতা।
وَأُتُوا۟ بِهِۦ مُتَشَـٰبِهًۭا
(ওয়া উতূ বির মুতাশাবিহা) – অথচ তাদের তা সদৃশ (দেখাবে),
রূপ বা বাহ্যিকতা দৃষ্টিতে একরকম, কিন্তু স্বাদ ও গুণে ভিন্ন—এটি জান্নাতি নিয়ামতের নিখুঁত সৌন্দর্যের দিক নির্দেশ করে।
وَلَهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ
(ওয়ালাহুম ফীহা আজওয়াজুম্ মুতাহ্হারাহ) – এবং তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সঙ্গিনীগণ,
এই সঙ্গিনীরা সবরকম অপবিত্রতা থেকে মুক্ত, আখলাক ও শারীরিকভাবে উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ।
وَهُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ
(ওয়া হুম ফীহা খালিদূন) – আর তারা সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
জান্নাতে কেউ কখনো মরবে না বা জান্নাত থেকে বেরও হবে না—এটি জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির ঘোষণা।
এই আয়াত পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর বিপরীতে একটি স্বস্তিদায়ক ঘোষণা। যারা কুরআন মেনে চলবে, ঈমান আনবে, এবং সৎকাজ করবে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত আনন্দ ও পুরস্কার।
জান্নাত এমন এক স্থান, যেখানে কোনো ক্লান্তি নেই, দুঃখ নেই, শুধু প্রশান্তি ও সুখ। জান্নাতবাসীরা প্রতিবার রিজিক গ্রহণ করে বিস্মিত হবে, যদিও দেখতে এক রকম মনে হবে, কিন্তু স্বাদ হবে আলাদা ও আরও উন্নত। এছাড়া, জান্নাতে তাদের জন্য থাকবে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র সঙ্গিনীগণ এবং তারা কখনোই জান্নাত থেকে বিতাড়িত হবে না।
– ঈমান ও সৎকাজই জান্নাত লাভের মূল চাবিকাঠি।
– জান্নাতের পুরস্কার কল্পনাতীত এবং অসীম।
– আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন নিয়ামত রেখেছেন যা প্রতিবার নতুন আনন্দ দান করবে।
– জান্নাতে পবিত্রতা, চিরস্থায়িত্ব এবং পরিপূর্ণ শান্তি রয়েছে।
– যারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে, তাদের জন্য রয়েছে অনন্ত পুরস্কার।
এই আয়াতটি মদীনায় নাযিল হয়েছে, এবং এটি পূর্ববর্তী আয়াতে কাফেরদের জন্য ভয়াবহ আগুনের ঘোষণা দেবার পর পরই এসেছে, যেন এটি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিচিত্র তুলে ধরে। একদিকে শাস্তির ভয়, অন্যদিকে পুরস্কারের সুসংবাদ—এই দুইয়ের মাধ্যমে কুরআন মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে।
ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের সাহস ও উৎসাহ দানের জন্য এই আয়াত নাযিল হয়, যেন তারা আল্লাহর পথে অটল থাকতে পারে এবং জান্নাতের সুসংবাদে প্রফুল্ল হয়।