সূরা: ২. আল-বাকারা (اَلْبَقَرَةِ)
২৩ নং আয়াতের তাফসীর

٢٣ - وَ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ رَیۡبٍ مِّمَّا نَزَّلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّنۡ مِّثۡلِهٖ ۪ وَ ادۡعُوۡا شُهَدَآءَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
উচ্চারণ: ওয়া ইং কুংতুম ফি রইবিম্ মিম্মা নাজ্জালনা ‘আলা ‘আবদিনা ফা’তু বিসূরাতিম্ মিম্ মিস্লিহি; ওয়াদ্‘উ সুহাদাআকুম্ মিং দূনিল্লাহি ইং কুংতুম্ সদিকীন।
অনুবাদ: আর যদি তোমরা এতে সন্দেহে থাকো, যা আমি আমার বান্দার প্রতি নাযিল করেছি, তাহলে এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো, আর আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীদের ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

তাফসীর

আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর

وَإِنْ كُنتُمْ
(ওয়া ইন কুনতুম) – এবং যদি তোমরা হও,
সন্দেহ প্রকাশকারীদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে: যদি তোমরা হয়ে থাকো এমন যারা...

فِي رَيْبٍ
(ফি রাইবিন্) – সন্দেহে থাকো,
অর্থাৎ কুরআনের সত্যতা নিয়ে যদি তোমাদের মনে সন্দেহ থাকে।

مِمَّا نَزَّلْنَا
(মিম্মা নাজ্জালনা) – যা আমরা নাযিল করেছি,
অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে।

عَلَىٰ عَبْدِنَا
(আলা আবদিনা) – আমাদের বান্দার প্রতি,
এখানে ‘আমাদের বান্দা’ বলতে মুহাম্মাদ (সা.) বোঝানো হয়েছে।

فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِۦ
(ফা’তু বিসূরাতিম্ মিম্ মিসলিহি) – তবে এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো।
অর্থাৎ কুরআনের মতো ভাষা, ভাব, অর্থ ও প্রভাবসম্পন্ন একটি সূরা তৈরি করে দেখাও।

وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم
(ওয়াদ‘উ সুহাদাআকুম) – তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো,
তোমরা যাদের শক্তিশালী ও জ্ঞানী মনে করো, তাদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করো।

مِّن دُونِ ٱللَّهِ
(মিন দুনিল্লাহি) – আল্লাহ ছাড়া,
তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপর ভরসা করো, তাদেরকে ডাকো।

إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
(ইন কুনতুম সাদিকীন) – যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
তোমাদের দাবি সত্য হলে, এর সমপর্যায়ের কিছু তৈরি করো।


আয়াতের ব্যাখ্যা

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। যারা মনে করে কুরআন মানুষের বানানো, তাদের বলা হচ্ছে: যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে এর মতো একটি সূরা তৈরি করে দেখাও। এই চ্যালেঞ্জ এমন এক যুক্তি যা কুরআনের অসামান্যতা প্রতিষ্ঠা করে। আরবের কবি ও ভাষাবিদেরা সেই যুগে চেষ্টা করেও এর সমতুল্য কিছু তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত আছে।


আয়াতের শিক্ষা

– কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এটি মানুষের সৃষ্টি নয়।
– সন্দেহকারীদের যুক্তিভিত্তিক চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
– কুরআনের ভাষা, বর্ণনা, অর্থবহতা ও প্রভাব অতুলনীয়।
– বিশ্বাসের পাশাপাশি যুক্তি ও প্রমাণের দাওয়াত ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
– সত্য অনুসন্ধানীদের উচিত কুরআনের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করে গ্রহণ করা।


নাযিলের প্রেক্ষাপট (সাবাবুন নুজুল)

এই আয়াতটি সূরা আল-বাকারা থেকে। মক্কার কাফেররা এবং পরবর্তীতে কিছু মুনাফিক ও ইহুদিরা কুরআনের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করত। তারা বলত, মুহাম্মাদ (সা.) নিজে এসব বানিয়ে বলেছেন। আল্লাহ এই আয়াতে তাদের যুক্তিসম্মত চ্যালেঞ্জ দেন—তোমরা চাইলে এর মতো একটি সূরা বানিয়ে দেখাও এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের উপর তোমরা নির্ভর করো, তাদের সাহায্য নাও। কিন্তু কেউই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি, কারণ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে, এটি মানুষের পক্ষে অনুকরণ করা সম্ভব নয়।


তাফসীরে:

পূর্বের আয়াত পরবর্তী আয়াত