আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
وَ لَتَجِدَنَّهُمۡ اَحۡرَصَ النَّاسِ عَلٰی حَیٰوۃٍ
“তুমি অবশ্যই তাদেরকে দেখবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জীবনপ্রেমী”—
এখানে ইহুদিদের কথা বলা হচ্ছে। তারা এতই জীবনমুখী ছিল যে, তারা অন্য সব মানুষের তুলনায় বেশি আয়ুর আশা করত।
وَ مِنَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا
“এমনকি যারা আল্লাহর সাথে শরিক করে তাদের থেকেও বেশি”—
মুশরিকরা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করত বা তার সাথে অন্যকে শরিক করত, তবুও ইহুদিদের জীবনপ্রেম তাদের থেকেও বেশি ছিল।
یَوَدُّ اَحَدُهُمۡ لَوۡ یُعَمَّرُ اَلۡفَ سَنَۃٍ
“তাদের প্রত্যেকেই চায়—যেন সে হাজার বছর আয়ু পায়”—
তাদের একজনও এমন নেই, যে দীর্ঘায়ুর আশায় লিপ্ত নয়। তারা মনে করত যে যত দীর্ঘ জীবন, তত নিরাপদ।
وَ مَا هُوَ بِمُزَحۡزِحِهٖ مِنَ الۡعَذَابِ اَنۡ یُّعَمَّرَ
“অথচ তাকে দীর্ঘ আয়ু দেওয়া হলেও তা তাকে শাস্তি থেকে দূরে রাখতে পারবে না”—
দীর্ঘ জীবন পেয়ে কেউ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। যদি সে গোনাহ্গার হয়, তবে শাস্তি অনিবার্য।
وَ اللّٰهُ بَصِیۡرٌۢ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ
“আর আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যক্ষ করছেন”—
আল্লাহ তাদের সব কর্মকাণ্ড দেখছেন, তিনি জানেন তারা কিভাবে জীবনকে আঁকড়ে ধরে আছে এবং কেমন অন্যায় করে চলেছে।
এই আয়াতে ইহুদিদের দুনিয়াপ্রীতির চরম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তারা নিজেকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা দাবি করলেও তাদের আমল, বিশ্বাস ও আচরণ ছিল এর বিপরীত। তারা মৃত্যু ও আখিরাতের ভয় না রেখে দুনিয়ার দীর্ঘ জীবন কামনা করত। এই কামনার পেছনে ছিল তাদের গোপন অপরাধ এবং শাস্তির ভয়। আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার দীর্ঘ আয়ু পেলে কেউ শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না যদি সে আল্লাহর বিধান অনুসরণ না করে।
দুনিয়াপ্রীতি ও দীর্ঘ জীবনের কামনা আখিরাত থেকে উদাসীনতার লক্ষণ।
দীর্ঘ আয়ু কারো শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না।
আল্লাহ মানুষের প্রতিটি কর্ম সম্পর্কে জানেন।
ঈমানদার ব্যক্তি মৃত্যু থেকে ভয় পায় না, বরং তা আল্লাহর সাক্ষাতের পথ হিসেবে দেখে।
এই আয়াত ইহুদি সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে নাযিল হয়েছে। তারা দাবি করত যে তারা আল্লাহর প্রিয়, কিন্তু তাদের বাস্তব আচরণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা দুনিয়ায় বাঁচতে চায়, মৃত্যু ও আখিরাত সম্পর্কে উদাসীন ছিল। তাদের মিথ্যা দাবি খণ্ডনের জন্য এই আয়াত এসেছে, যাতে বোঝানো হয়—আল্লাহ তাদের আমলের প্রকৃত বাস্তবতা জানেন এবং তারা চাইলেও শাস্তি এড়াতে পারবে না।