● اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ الَّذِیۡنَ هَادُوۡا وَ النَّصٰرٰی وَ الصّٰبِئِیۡنَ
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, ইহুদী, নাসারা ও সাবীয়রা”
এই অংশে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, যারা সত্যিকার অর্থে ঈমান আনে – সেটা যেকোনো ধর্মের (ইসলাম, ইহুদী, খ্রিস্টান, সাবীয়) হোক – তাদের কথা বলা হচ্ছে।
● مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ عَمِلَ صَالِحًا
“যে আল্লাহর ওপর, কিয়ামতের দিন বিশ্বাস স্থাপন করে এবং ভাল কাজ করে”
এখানে বলা হয়েছে, শুধু ঈমানই যথেষ্ট নয়, ঈমানের সাথে সৎ আমলও আবশ্যক।
● فَلَهُمۡ اَجۡرُهُمۡ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ
“তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিদান তাদের রবের নিকট”
আল্লাহ এই সৎ ঈমানদার ও সৎ কর্মরত লোকদের অবশ্যই সুন্দর প্রতিদান দিবেন।
● وَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
“এদের উপরে কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না”
সৎ ঈমানদাররা কিয়ামত পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে, তাদের ওপর কোনো ভয় বা দুঃখ আসবে না।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন যে, যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কিয়ামতের দিনে বিশ্বাস রাখে এবং সৎ কাজ করে, তাদের জন্য আখিরাতে সুন্দর প্রতিদান প্রস্তুত রয়েছে। তারা জীবনের কোনো ভয় বা দুঃখ অনুভব করবে না। এখানে আল্লাহ সমস্ত ধর্মের সৎ ঈমানদারদের প্রশংসা করছেন এবং তাদের জন্য ভালো ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ঈমান কেবল মুখের কথা নয়, কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যারা সত্যিকার ঈমান ও সৎ আমল করে তাদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য ও শান্তি নিশ্চিত।
ভয় বা দুঃখ মুক্ত জীবন ঈমানদারদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান পুরস্কার।
এই আয়াতটি মক্কা মদিনার যুগে নাযিল হয়, যখন নবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও মিলনের আহ্বান জানানো হচ্ছিল। আল্লাহ তাআলা সবাইকে আশ্বস্ত করছিলেন যে, সৎ ঈমান ও আমলের মাধ্যমে যেকোনো ধর্মের লোকেরা তাঁর কাছে প্রিয় হতে পারে।