● وَ اٰمِنُوۡا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتُ
“আর আমি যা নাযিল করেছি, তাতে ঈমান আনো”— অর্থাৎ কুরআন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সত্যতা প্রমাণকারী।
● مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَکُمۡ
“যা তোমাদের সাথে আছে তার সত্যতা প্রদানকারী” — অর্থাৎ কুরআন তাওরাত, ইনজিল প্রভৃতি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যায়ন করছে, সুতরাং এর ওপর ঈমান আনা তাদের কর্তব্য।
● وَ لَا تَکُوۡنُوۡۤا اَوَّلَ کَافِرٍۭ بِهٖ
“এতে তোমরা প্রথম অবিশ্বাসী হয়ো না” — ইহুদি ও নাসারারা যেন নিজেদের সম্মানিত ধর্মগ্রন্থকে ভুলে গিয়ে কুরআনের প্রতি প্রথম অবিশ্বাস প্রদর্শন না করে।
● وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا
“আর আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না” — দুনিয়াবি স্বার্থ বা লোভের জন্য সত্য গোপন করো না এবং আল্লাহর বাণী বিক্রি কোরো না।
● وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ
“আর শুধু আমারই ভয় করো” — তোমরা মানুষের বা শাসকের ভয়ে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো।
এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন তারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনে, কারণ এটি তাদের নিকটবর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রদান করে। একইসাথে তাদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা নিজেদের গর্বের কারণে প্রথম অবিশ্বাসী না হয় এবং দুনিয়াবি লোভে পড়ে আল্লাহর আয়াত গোপন না করে। এই আয়াতটি আল্লাহর প্রতি খাঁটি ভয় এবং আন্তরিক তাকওয়ার আহ্বান।
● পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবধারীদের দায়িত্ব ছিল নবী মুহাম্মদ ﷺ এবং কুরআনকে স্বীকৃতি দেওয়া।
● সত্য গোপন করা ও দুনিয়াবি স্বার্থে আল্লাহর আয়াত বিক্রি করা বড় অপরাধ।
● কেবলমাত্র আল্লাহর ভয়ই মানুষের সঠিক পথে থাকার অন্যতম শর্ত।
● কুরআন সকল পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের সত্যতা প্রদানকারী — তাই এর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক।
এই আয়াতটি মদিনার ইহুদি সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে নাযিল হয়। তারা তাওরাতে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর আগমন ও কুরআনের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে বসে। এ কারণে আল্লাহ তাদের সতর্ক করেন এবং আহ্বান জানান যেন তারা সত্যকে গ্রহণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে।