وَ إِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ
(ওয়া ইয ক্বলা মূসা লি-কওমিহি)
আর যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন
এখানে "ওয়া ইযা" শব্দটি দ্বারা নির্দেশ করা হচ্ছে, যখন মূসা আল্লাহর পক্ষ থেকে জাতির প্রতি সতর্কতা এবং নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। এটি সেই মুহূর্তের কথা, যখন মূসা আল্লাহর রাসূল হিসেবে তাদেরকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করতে ছিলেন।
يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي
(ইয়া কাওমি লিমা তুজুনানি)
হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমাকে কেন আঘাত দিচ্ছো
এখানে মূসা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছেন, কেন তারা তাঁর প্রতি অসদাচরণ করছে, অথচ তিনি তাদের জন্য আল্লাহর মেসেঞ্জার, একজন সৎ এবং সত্যনিষ্ঠ নেতা। তাদের এই আচরণ তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। এটি এক ধরনের তিরস্কার, যে তারা তাঁকে উপেক্ষা করে এবং বিপথে চলে যাচ্ছে।
وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ
(ওয়াকদ তা‘লামূনা আন্নি রসূলুল্লাহি ইলাইকুম)
অথচ তোমরা জানো যে, আমি আল্লাহর রাসূল তোমাদের কাছে
এখানে মূসা তাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা জানে যে তিনি আল্লাহর পাঠানো রাসূল, এবং তার মধ্যে কোনো ধরনের সন্দেহ বা দ্বন্দ্ব নেই। তারপরও তাদের এই ক্ষোভ এবং বিরোধিতা অদ্ভুত এবং অগ্রহণযোগ্য ছিল।
فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ
(ফালাম্মা যাগূ আজাগাল্লাহু কুলূবাহুম)
কিন্তু যখন তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলো, আল্লাহ তাদের হৃদয়কেও বিপথে চালিত করলেন
এখানে বলা হচ্ছে, যখন তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হলো, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরও অন্ধকারে ঢেকে দিলেন। তাদের অন্তর যখন নষ্ট হলো, তখন তারা সঠিক পথে আসতে পারলো না, এবং আল্লাহ তাদের মনকে সঠিক পথে পরিচালিত না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এটি একটি সতর্কবার্তা যে, যদি কোনো জাতি বা সম্প্রদায় সৎ পথে না চলতে চায়, তবে আল্লাহ তাদের হৃদয়ে অন্ধকার প্রবাহিত করে দেন।
وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
(ওয়াল্লাহু লা ইয়াহদীল কওমাল ফাসিকীন)
আর আল্লাহ তাআলা ফাসিকদের হেদায়াত দেন না।
এখানে "ফাসিকীন" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ তাদের যারা আল্লাহর আইন ও নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়। আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দেন না যারা অবাধ্য থাকে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানায়।
এ আয়াতে মূসা (আ.) এর জাতির বিরোধিতা এবং তাদের সৎ পথ থেকে বিচ্যুতি বর্ণিত হয়েছে। মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে প্রশ্ন করেছেন, কেন তারা আল্লাহর নির্দেশ এবং তার উপর বিশ্বাস করার পরেও তাকে আঘাত দিচ্ছে। তাদের এই দ্বৈত আচরণটি তাদের অন্তরের অবস্থা এবং ফাসিক হওয়ার প্রমাণ, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেননি।
আল্লাহ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিক্ষা দিয়েছেন, যে যেই ব্যক্তি অবাধ্য হবে এবং আল্লাহর হুকুম থেকে সরে যাবে, তাকে আল্লাহ হেদায়াত দিবেন না। তাদের অন্তরকে বাঁধিয়ে রাখা হয়, যাতে তারা সঠিক পথ খুঁজে না পায়। এটি একটি গভীর সতর্কতা যে, আল্লাহর পথ থেকে সরে গেলে মানুষের হৃদয়ে বিপথ গমন হয় এবং তাদের জন্য আল্লাহর হেদায়াত মুলত নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
– আল্লাহর পথে অবিচল থাকা এবং রাসূলদের প্রতি আস্থা রাখা অপরিহার্য।
– যদি কোনো জাতি বা ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে তাদের অন্তরকে অন্ধকারে পরিণত করা হয়।
– আল্লাহ শুধুমাত্র তাদেরকেই হেদায়াত দেন যারা তাঁর পথে অবিচল থাকে।
– আমরা যেন নিজেদের অন্তরে বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক রাখি এবং আল্লাহর নির্দেশনা পালন করি।
এই আয়াতটি মূসা (আ.) এবং তার সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। মূসা যখন তার জাতিকে আল্লাহর পথে ডেকে আনার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তারা তার প্রতি বিরোধিতা করতে শুরু করে। তাদের এই অবাধ্যতা এবং অবিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেছেন। এটি তাঁদেরকে সতর্ক করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে নাযিল হয়েছিল।