الَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَهۡدَ اللّٰهِ
(আল্লাযীনা ইয়ানকুদূনা 'আহদাল্লাহি)
যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। এটি হতে পারে নবীর প্রতি বিশ্বাস, সত্য অনুসরণ, অথবা পূর্ববর্তী কিতাবে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি।
مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِهٖ
(মিন্ বাঅদি মীসাকিহি)
অর্থাৎ অঙ্গীকার গ্রহণ করার পর। যখন তারা স্পষ্টভাবে জেনে ও স্বীকার করে নিয়েছিল, এরপর তা ভঙ্গ করে।
وَ یَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ
(ওয়া ইয়াক্বতা‘ূনা মা আমারাল্লাহু বিহি আন্ইয়্যূসাল)
তারা ছিন্ন করে সেই সম্পর্ক, যার সংরক্ষণে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন—যেমন আত্মীয়তার বন্ধন, মানবতা, ঈমান ও দ্বীনের সংযুক্ততা।
وَ یُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ
(ওয়া ইউফসিদূনা ফিল্ আরদ্ব)
তারা পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে; যেমন অন্যায়, যুদ্ধ, বিভ্রান্তি, ঈমানের প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি ছড়িয়ে দেয়।
اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ
(উলাইকা হুমুল খাসিরূন)
এরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের চরম ক্ষতি অনিবার্য।
এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এমন কিছু লোকের কথা উল্লেখ করছেন যারা তাঁর সঙ্গে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে। এই অঙ্গীকার হতে পারে ঈমান গ্রহণ, আল্লাহর আদেশ মান্য করা, দ্বীনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি। তাঁরা শুধু অঙ্গীকারই ভঙ্গ করে না, বরং এমন সম্পর্ক ছিন্ন করে যা আল্লাহ রক্ষা করতে বলেছেন এবং সমাজে ফিতনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে, তারা সমাজের কাঠামো ধ্বংসকারী এবং আল্লাহর নির্দেশনার বিপরীত পথ অনুসরণকারী। এদের পরিণতি চূড়ান্ত ক্ষতির মধ্যে পতিত হওয়া।
আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তা রক্ষা করা অপরিহার্য।
আত্মীয়তার বন্ধন এবং অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজে শান্তি ও সুস্থতা বজায় রাখা মুমিনের দায়িত্ব; ফিতনা সৃষ্টি করা মহাপাপ।
যারা এসব নির্দেশ অমান্য করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মুফাসসিরগণের মতে, এই আয়াতটি মূলত সেই সমস্ত মুনাফিক ও ইহুদিদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চুক্তি করার পর তা ভঙ্গ করেছিল এবং বিভিন্নভাবে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে সক্রিয় ছিল। তারা নিজেদের কিতাবে নবীর আগমনের কথা জেনে স্বীকার করার পরও ঈর্ষা ও অহংকারবশত তা অস্বীকার করে, এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।