আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
● يٰبَنِيۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلَ
“হে বনী ইস্রাঈল!” — ইস্রাঈল হলেন নবী ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)। তাঁর সন্তানদেরকেই বনী ইস্রাঈল বলা হয়। এই সম্বোধন হচ্ছে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিকনির্দেশনার অংশ।
● اذۡكُرُوۡا نِعۡمَتِيَ الَّتِىۡۤ اَنۡعَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ
“স্মরণ করো আমার সেই অনুগ্রহ, যা আমি তোমাদের উপর দান করেছি” — আল্লাহ তাদেরকে ফেরাউন থেকে মুক্তি, মন্না ও সালওয়া, রাসুলগণ ও কিতাব, মিরাকল ইত্যাদি বহু নিয়ামত দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি।
● وَ اَنِّىۡ فَضَّلۡتُكُمۡ عَلَى الۡعٰلَمِيۡنَ
“এবং আমি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম” — এই শ্রেষ্ঠত্ব ছিল তাদের সময়কার জন্য। আল্লাহ তাদেরকে নবী, কিতাব, জ্ঞান, ইজ্জত সবকিছুতে এগিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু তা চিরস্থায়ী ছিল না।
আল্লাহ তাআলা বনী ইস্রাঈলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি অতীতে তাদেরকে কত অনুগ্রহ করেছেন এবং কত মর্যাদা দিয়েছেন। এই স্মরণ তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সঠিক পথে ফেরানোর জন্য। কিন্তু তারা সেই অনুগ্রহের মূল্য দেয়নি, বরং অবাধ্যতা করেছে। এখানে ইঙ্গিত রয়েছে যে, অতীতের অনুগ্রহ বা মর্যাদা কাউকে চিরস্থায়ী সফলতা দেয় না—বরং প্রাপ্যতা নির্ভর করে চলমান আনুগত্য ও তাকওয়ার ওপর।
● আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত স্মরণ করা ঈমানদারদের জন্য আবশ্যক।
● যাকে বেশি নিয়ামত দেওয়া হয়, তার দায়িত্বও বেশি হয়।
● অতীতে যারা মর্যাদাপূর্ণ ছিল, তারা এখন তিরস্কৃত — যদি তারা সত্যচ্যুত হয়।
● কৃতজ্ঞতা না থাকলে নিয়ামতের মর্যাদা থাকে না।
● উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব টিকে থাকে তাকওয়া ও আনুগত্যের মাধ্যমে।
এই আয়াত সূরা আল-বাকারা-র সেই অংশে অবতীর্ণ, যেখানে আল্লাহ বনী ইস্রাঈলের ইতিহাস এবং তাদের অবাধ্যতা ও অবিশ্বাসের ঘটনাগুলো তুলে ধরছেন। এখানে তাদের প্রতি অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বোঝানো হচ্ছে—তারা কত মর্যাদা পেয়েও পথভ্রষ্ট হয়েছিল। এই আয়াত মদীনাতে নাজিল হয়েছে, যখন ইহুদিরা নবী (সা)-কে অস্বীকার করেছিল, অথচ তাদের কিতাবেই তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল।