আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর
● اَتَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبِرِّ
“তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মে আদেশ করো” — এই অংশে ইহুদিদের সমালোচনা করা হচ্ছে, যারা অন্যদের নেক আমলের উপদেশ দিলেও নিজেরা তার চর্চা করতো না। তারা অন্যদের ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিত, কিন্তু নিজেরাই তার বিপরীত আচরণ করত।
● وَ تَنۡسَوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ
“আর নিজেদেরকে ভুলে যাও” — তারা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও আমল নিয়ে ভাবত না। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা, যা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
● وَ اَنۡتُمۡ تَتۡلُوۡنَ الۡکِتٰبَ
“অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত কর” — কিতাব তথা তাওরাত পড়া সত্ত্বেও তারা এর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করতো না। এটি তাদের দ্বিমুখী আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ।
● اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
“তবে কি তোমরা বুদ্ধি খাটাও না?” — আল্লাহ তাদের বিবেক ও বুদ্ধির প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন—যারা জ্ঞান রাখে, তাদের উচিত আগে নিজের জীবনকে সংশোধন করা।
এই আয়াতটি ইহুদি আলেম ও নেতাদের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে সদাচরণের নির্দেশ দিত, কিন্তু নিজেরা তার বাস্তবায়নে উদাসীন ছিল। তাওরাত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও তারা তাতে বর্ণিত নির্দেশ পালনে গাফিল ছিল। এটি আমাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেন আমরা অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজেদের আমলকে সংশোধন করি। দ্বিচারিতা আল্লাহর নিকট ঘৃণিত।
● অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজে আমল করা জরুরি।
● দ্বিমুখী আচরণ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
● ইলম (জ্ঞান) শুধু জানার জন্য নয়, তা অনুযায়ী চলার জন্যও।
● নসিহত করার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আগে নিজের জীবন ঠিক করতে হবে।
● কিতাব তিলাওয়াত ও বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন থাকা উচিত।
এই আয়াতটি ইহুদিদের নেতৃস্থানীয়দের সম্পর্কে নাযিল হয়, যারা তাওরাত পড়ত, ধর্মীয় জ্ঞান রাখত, কিন্তু নিজেরা সে অনুযায়ী চলতো না। তারা সাধারণ মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দিত, অথচ নিজেরাই তা পালন করত না। আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের ভণ্ডামি তুলে ধরেছেন এবং আমাদের সতর্ক করেছেন যাতে আমরা একই ভুল না করি।