১. আয়াতের প্রতিটি অংশের বিস্তারিত তাফসীর
● لَقَدۡ رَضِیَ اللّٰهُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন” – এটি এক অতুলনীয় মর্যাদার ঘোষণা। এখানে “لَقَدۡ رَضِیَ” দ্বারা জোর প্রদান করা হয়েছে। “রযি” মানে কারও প্রতি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হওয়া, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত।
● عَنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
“মুমিনদের প্রতি”—এরা হচ্ছেন হুদাইবিয়ার সেই সাহাবায়ে কেরাম, যারা নবী ﷺ এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
● اِذۡ یُبَایِعُوۡنَکَ تَحۡتَ الشَّجَرَۃِ
“যখন তারা গাছের নিচে তোমার হাতে বায়আত করছিল”—এই গাছটি ছিল একটি সামুর গাছ, হুদাইবিয়ার প্রান্তরে। সাহাবীরা হযরত উসমান রা.-এর মৃত্যুর গুজবে উত্তেজিত হয়ে নবীর হাতে ‘বায়আতুর রিদওয়ান’ করেছিলেন।
● فَعَلِمَ مَا فِیۡ قُلُوۡبِهِمۡ
“আল্লাহ জানতেন তাদের অন্তরে কী ছিল”—তাদের খাঁটি ঈমান, ইখলাস, ত্যাগের প্রস্তুতি এবং রাসূলের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা।
● فَاَنۡزَلَ السَّکِیۡنَۃَ عَلَیۡهِمۡ
“তাদের উপর সান্ত্বনা (সাকীনা) নাযিল করলেন”—আল্লাহ তাদের হৃদয়ে শান্তি, আস্থা এবং সাহস দান করলেন, যাতে তারা ভয়হীন ও দৃঢ় থাকে।
● وَ اَثَابَهُمۡ فَتۡحًا قَرِیۡبًا
“এবং তাদের পুরস্কার দিলেন একটি নিকটবর্তী বিজয়”—এখানে খায়বার বিজয়ের কথা বলা হয়েছে, যা বায়আতের কিছুদিন পরেই ঘটে।
এই আয়াতে হুদাইবিয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে সাহাবীদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। যখন উসমান রা.-এর শহীদ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন সাহাবিরা কোনো দেরি না করে নবী ﷺ এর হাতে মৃত্যুর অঙ্গীকার করেন।
এই সাহসিকতা, একাগ্রতা, ও ত্যাগের প্রতিদানে আল্লাহ তাআলা তাঁদের অন্তরের ঈমান যাচাই করেন, প্রশান্তি প্রদান করেন এবং পরে বিজয়ের পুরস্কার দেন।
এই আয়াতটি সাহাবীদের ঈমান, রাসূল ﷺ এর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক উজ্জ্বল দলিল।
● সত্যিকারের ঈমানদাররা দুঃসময়ে রাসূল ﷺ এর পাশে থাকেন।
● আল্লাহ বান্দার অন্তরের অবস্থা জানেন এবং তার ভিত্তিতে তাঁকে পুরস্কৃত করেন।
● ঈমান, ইখলাস ও ত্যাগের মনোভাব আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রধান উপায়।
● কোনো কাজের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে "সাকীনা" পাওয়া মানেই বিজয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া।
● বায়আত বা আনুগত্যের অঙ্গীকার ইসলামী রীতির একটি অংশ, যা সাহাবারা পালন করেছেন প্রাণপণে।
● আল্লাহ তাঁর রাহে চলার পুরস্কার দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জায়গায় দিয়ে থাকেন।
এই আয়াতটি হুদাইবিয়ার সান্ধ্যচুক্তি ও বায়আতুর রিদওয়ান প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়।
রাসূল ﷺ সাহাবিদের নিয়ে উমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কা যাচ্ছিলেন। কুরাইশ বাধা দেয়।
উসমান রা. কে প্রতিনিধি করে পাঠানো হলে গুজব ছড়ায় যে তিনি শহীদ হয়েছেন।
তখন রাসূল ﷺ সাহাবিদের নিয়ে গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেন।
সেই আত্মোৎসর্গমূলক বায়আতের প্রতি আল্লাহ এতটাই সন্তুষ্ট হন যে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।