اُدۡعُ اِلٰی سَبِیۡلِ رَبِّکَ بِالۡحِکۡমَۃِ (আপনার রবের পথের দিকে দাওয়াত দিন হিকমত বা প্রজ্ঞার সাথে): হিকমত বলতে এখানে কুরআন, সুন্নাহ এবং স্থান-কাল-পাত্রভেদে সঠিক কৌশল অবলম্বন করাকে বোঝানো হয়েছে। দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের মানসিকতা বুঝে কথা বলা অপরিহার্য।
وَ الۡمَوۡعِظَۃِ الۡحَسَنَۃِ (এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে): মানুষকে এমনভাবে নসীহত করা যাতে তাদের হৃদয়ে ভীতি নয়, বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগের সৃষ্টি হয়। কর্কশ ভাষা পরিহার করে কোমল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষা ব্যবহার করা।
وَ جَادِلۡهُمۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ (এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়): যদি বিরোধী পক্ষের সাথে যুক্তিতর্কের প্রয়োজন হয়, তবে সেখানেও গালিগালাজ বা হঠকারিতা করা যাবে না। বরং অত্যন্ত ভদ্র ও যুক্তিপূর্ণ উপায়ে সত্য উপস্থাপন করতে হবে।
اِنَّ رَبَّکَ هُওয়া اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِهٖ (নিশ্চয় আপনার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে): এটি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য সান্ত্বনা। মানুষকে হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর কাজ; কে ভ্রষ্ট আর কে অবাধ্য তা আল্লাহই নির্ধারণ করবেন।
وَ هُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُهۡتَدِیۡنَ (এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত): যারা সত্যকে গ্রহণ করবে এবং সরল পথে চলবে, আল্লাহ তাদের অন্তরের খবরও জানেন এবং তিনি তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন।
ব্যাখ্যা: সূরা আন-নাহল-এর এই ১২৫ নম্বর আয়াতটি ইসলামি দাওয়াতের সংবিধান হিসেবে পরিচিত। এখানে তিনটি মৌলিক কৌশলের কথা বলা হয়েছে: হিকমত (প্রজ্ঞা), মাউইযাতুল হাসানাহ (সদুপদেশ) এবং মুজাদালাহ বিল আহসান (উত্তম বিতর্ক)। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে জবরদস্তি বা উগ্রতা নয়, বরং দয়া ও প্রজ্ঞা মূল হাতিয়ার।
শিক্ষা: ১. দাওয়াতের কাজ শুরু করার আগে সঠিক জ্ঞান ও কৌশল অর্জন করা বাঞ্ছনীয়। ২. কঠোরতা বা অভদ্র আচরণ দাওয়াতের পথে বাধা স্বরূপ, যা ইসলাম সমর্থন করে না। ৩. তর্কের খাতিরে বিতর্ক না করে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সুন্দর পন্থায় আলোচনা করতে হবে। ৪. ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে; দাঈর কাজ শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। ৫. হিদায়াত কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
উহুদ যুদ্ধে নবী করীম (সা.)-এর চাচা হযরত হামযা (রা.) অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন এবং মুশরিকরা তাঁর লাশের অঙ্গহানি (মুসলা) করে। এতে রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প করেন। তখন আল্লাহ তা'আলা সবর বা ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়ে এই আয়াতগুলো নাযিল করেন। এতে শিক্ষা দেওয়া হয় যে, চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও একজন দাঈ বা সংস্কারককে তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না এবং মানুষকে সর্বদা মহানুভবতার সাথে দ্বীনের পথে ডাকতে হবে।