সূরা: ২. আল-বাকারা (اَلْبَقَرَةِ)
২১ নং আয়াতের তাফসীর

٢١ - یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اعۡبُدُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ وَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহান-নাসু উ'বুদু রব্বাকুমুল্লাযী খলাককুম্ ওয়াল্লাযী-না মিং ক্ববলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকূ-ন।
অনুবাদ: হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদাত কর, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।

তাফসীর

আয়াতের প্রতিটি অংশের তাফসীর

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ
– “হে মানুষ!”
এই আহ্বান সব মানুষের প্রতি — মুসলিম, কাফির, মুনাফিক, সকলের জন্য। এটি ইসলামে সামগ্রিক মানবজাতির প্রতি সরাসরি আহ্বানের সূচনা নির্দেশ করে।

اعۡبُدُوۡا رَبَّکُمۡ
– “তোমাদের প্রভুর ‘ইবাদত করো”
‘ইবাদত’ বলতে বোঝানো হয় একমাত্র আল্লাহর উপাসনা, আনুগত্য ও আজ্ঞাবহণ। এখানে তাওহীদের মৌলিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ
– “যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন”
এটি ‘ইবাদতের জন্য যুক্তি হিসেবে এসেছে। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনিই উপাসনার একমাত্র যোগ্য। সৃষ্টি করা আল্লাহর একান্ত গুণ।

وَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ
– “এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকেও”
শুধু বর্তমান মানুষ নয়, আগের সব জাতি ও মানবগোষ্ঠীও তাঁরই সৃষ্টি। সুতরাং অতীত ও বর্তমান সব যুগের মানুষকেই এক আল্লাহর ‘ইবাদত করতে বলা হচ্ছে।

لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
– “যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো”
তাকওয়া মানে আল্লাহভীতি ও সচেতনভাবে পাপ থেকে বিরত থাকা। ‘ইবাদতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই তাকওয়া অর্জন করা।


আয়াতের ব্যাখ্যা

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে ‘ইবাদতের প্রতি আহ্বান করেছেন। শুধু মুসলিমদের নয়, বরং মানবজাতির সকল সদস্যকে। ‘ইবাদতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে, যিনি কেবল এই যুগের নয়, পূর্ববর্তী সব যুগের মানবদেরও সৃষ্টিকর্তা। উদ্দেশ্য হলো – মানুষ যেন আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর বিধান অনুসরণ করে এবং পাপকাজ থেকে বিরত থাকে। এটি ইসলামের মৌলিক দাওয়াত।


আয়াতের শিক্ষা

● আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা।
● ‘ইবাদত করা কেবল নামায, রোযা নয় – বরং জীবনব্যাপী আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা।
● তাকওয়া অর্জনের পথ হলো সত্যিকারের ‘ইবাদত।
● ইসলাম সব মানুষের জন্য – সবার প্রতি এই আহ্বান এসেছে।
● পূর্ববর্তী জাতিগুলোও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাদের ইতিহাস থেকেও শিক্ষা গ্রহণ জরুরি।


নাযিলের প্রেক্ষাপট (সাবাবুন নুজুল)

এই আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ এবং মূলত মক্কী কাফির, আহলে কিতাব ও মুনাফিকদের জন্যও এক সার্বজনীন দাওয়াত। এটি ছিল সূরা বাকারা’র প্রথম বড় নির্দেশনা-ভিত্তিক আয়াত, যেখানে আল্লাহ মানুষকে তাঁর একত্ববাদ ও ‘ইবাদতের প্রতি আহ্বান করছেন। পূর্ববর্তী আয়াতে মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা শেষে, এখানে এখন সকলে জন্য ‘ইবাদতের মাধ্যমে পথনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


তাফসীরে:

পূর্বের আয়াত পরবর্তী আয়াত